আজকালের প্রতিবেদন: দিলীপবাবুর জন্য আমার দুঃখ হয়। তিনি জানেনও না কে কোথায় প্রার্থী হবে!‌ মুকুল রায় সব কিছু এখন দিল্লিতে করে দিয়েছে। টিভি দেখে জানতে হচ্ছে, দলের নতুন লোকেদের আসা–‌যাওয়া। ওঁর অবস্থা দেখে কষ্ট হচ্ছে। ‌‌শুক্রবার‌ এই মন্তব্য করেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী, কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। অর্জুন সিংয়ের দলত্যাগ প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, ‘‌যে যেখানে খুশি যেতে পারে। আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু বিজেপি একটা পুরোনো দল।  দলে মুকুল রায়ের প্রভাব বেড়ে গেছে। এখন দিল্লি থেকে উনি সব করছেন। এখানে মুরলী ধর লেনের অফিসটা রাখার আর কী দরকার আছে?‌ সব যোগদান হচ্ছে দিল্লিতে। দিলীপ ঘোষকে হজম করতে হচ্ছে। দিলীপবাবু ভয় পাচ্ছেন। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য উনি এখানে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন। বিজেপি–‌র পরিচিত মুখ রাহুল সিনহা, শমীক ভট্টাচার্য, রীতেশ তিওয়ারির মতো লোকেদের কোনও মূল্য আছে বলে তো দেখছি না। তৃণমূল থেকে যিনি গেছেন, তিনিই নেতৃত্ব নিয়ে নিয়েছেন।’‌
কেন্দ্রের অর্থসাহায্য নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবির জবাবে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‌তিনি তো কেন্দ্রীয় সরকারের কেউ নন। ফলে তঁার পক্ষে রাজ্যে কী হচ্ছে বা না হচ্ছে সেটা জানারই কথা নয়। তিনি জানবেন কী করে?‌ মেডিক্যাল কলেজ এবং রাজ্যের অন্যান্য সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যেভাবে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে তা যদি তিনি দেখেও না দেখার ভান করেন, তাহলে তো কিছু বলার নেই!‌ আর রাজ্যকে শুধু কেন্দ্রই দেয় না, রাজ্য থেকে বড় অংশের অর্থ নিয়েও যায়। আগে ছিল প্ল্যানিং কমিশন, এখন নীতি আয়োগ। নীতি আয়োগ তো কিছুই দেয় না। সবই তো বন্ধ করে দিয়েছে। যেমন জওহরলাল নেহরু ন্যাশনাল আর্বান রিনিউয়্যাল মিশন (‌জেএনএনইউআরএম)‌ প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে মা উড়ালপুল, চন্দননগরে উড়ালপুল সবই রাজ্য সরকারকে করতে হয়েছে।’‌
কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পুরমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরোধিতা করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি ও বামফ্রন্ট। এ বিষয়ে ফিরহাদকে প্রশ্ন করা হলে বলেন,‘‌আমার বিরুদ্ধে বিরোধীরা কোর্টেও গিয়েছিল। আমার ওপর ওদের অ্যালার্জি আছে। কারণ, আমি সোজাসুজি দলের পক্ষে কথা বলি। আমি এমন কিছু বলিনি, যা অসাংবিধানিক। নির্বাচনের জন্য আসে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর আগেও এসেছে। নির্বাচনে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সবটাই এখানকার পুলিসের হাতে। জঙ্গলমহলে খুনোখুনি হয় না। এখন আর নন্দীগ্রামে গন্ডগোল হয় না। সিঙ্গুরে জমিদখল হয় না। রাজ্যের সবাই খুব শান্তিতে আছেন। এখানে অসাংবিধানিক কী আছে !‌’‌

 

সাংবাদিকদের সামনে ফিরহাদ হাকিম। নবান্নে, শুক্রবার। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top