স্নেহাশিস সৈয়দ, বহরমপুর, ৫ মার্চ- চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ তুলে নার্সিংহোমে ভাঙচুর চালাল রোগীর বাড়ির লোকজন। তারা নার্সিংহোমে আগুনও ধরিয়ে দেয়। মারধর করা হয় নার্সিংহোমের কর্মীদের। ঘটনাস্থলে গিয়ে দমকলের দুটি ইঞ্জিন আগুন আয়ত্তে আনে। পুলিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃতার নাম জুলেখা বিবি (২৭)। বেলডাঙার বাসিন্দা। সোমবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। 
বেলডাঙা থানার দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা প্রসূতি জুলেখার এদিন সকাল থেকে প্রসব যন্ত্রণা ওঠে। তাঁর স্বামী পেশায় দিনমজুর খালেক শেখ ও বাড়ির আত্মীয়রা তাঁকে দুপুরে রেজিনগরের থানার মোড়ের এক নার্সিংহোমে এনে ভর্তি করেন। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানান, শীঘ্রই জুলেখার সিজার করতে হবে। তাঁদের কথা শুনে জুলেখার আত্মীয়রা বিষয়টিতে সম্মতি জানান। সিজারের পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জুলেখার পরিবারকে জানিয়ে দেন মা ও সন্তান দু’‌জনেই মারা গেছেন। তাঁরা বহু চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি। আত্মীয়রা দেহ নিয়ে যেতে পারেন। 
এ কথা জানার পরেই জুলেখার পরিবারের লোকেরা ক্ষেপে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতা নার্সিংহোমে ভাঙচুর শুরু করে। নার্সিংহোমে থাকা আসবাবপত্র ভেঙে দেওয়া হয়। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় নার্সিংহোমে। হাসপাতালের কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকি হাসপাতাল চত্বরে থাকা বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্মীরা ভয় পেয়ে একটি ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেন।
 জুলেখার স্বামী ও পরিবারের অভিযোগ, ‘‌চিকিৎসার গাফিলতিতে জুলেখার মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি বেঁচে ছিল। চিকিৎসকরা সঠিকভাবে সিজার করতে পারেননি তাই দু’‌জনকেই মরতে হয়েছে।’‌ ঘটনার পরেই খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিস এসে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বহরমপুর থেকে দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছেন মৃতের পরিবার।

রেজিনগরে জ্বলছে নার্সিংহোম। ছবি:‌ চয়ন মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top