যজ্ঞেশ্বর জানা, হলদিয়া: নাব্যতা এবং লঞ্চের যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য বন্ধের মুখে গেঁওখালি–নুরপুর এবং রায়চক–কুঁকড়াহাটি ফেরি সার্ভিস। বিস্তীর্ণ দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কলকাতার সঙ্গে হলদিয়া–সহ পূর্ব মেদিনীপুরের যোগাযোগের সব থেকে সহজ রাস্তা হল এই দুই ফেরি সার্ভিস। রায়চক–কুঁকড়াহাটির ফেরিতে একদিকে ডায়মন্ড হারবার থেকে লঞ্চ চলাচল করে, আবার রায়চক থেকে চলাচল করে ভেসেল। যেখানে নিত্যদিন যাতায়াত করেন হাজার হাজার মানুষ।
কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে কুকড়াহাটি জেটি ঘাট নদীর চড়ার জন্য ব্যাপক সমস্যায় জর্জরিত। ভরা জোয়ারের সময়টুকু বাদ দিয়ে বাকি সময় জেটি ঘাটে লঞ্চ বা ভেসেল ভিড়তে সমস্যায় পড়ে। ফলে অনিয়মিত ফেরি সার্ভিসের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিত্য নাকাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। গেঁওখালি–নুরপুরের ক্ষেত্রে দুটো লঞ্চে করে নদীর এপার–ওপার পারাপার চলে। এখানে নাব্যতার কারণে ফেরি সার্ভিসের দুটো লঞ্চই কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পরিষেবা সচল রাখতে মঙ্গলবার সকালে ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্ট সংস্থা ভুটভুটিতে যাত্রী পারাপার শুরু করে। অবশ্য স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসার পরই বিপদের আশঙ্কা করে পুলিস পাঠিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় ভটভটিতে যাত্রী পরিবহণ।
তবে এদিন দুপুরের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, আপাতত পরিষেবা বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন যারা এই দুই জেটিঘাট ধরে নদী পেরিয়ে যাতায়াত করেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা খুব খারাপ। জলের স্রোত কমে যাওয়ায় দুটো জেটিঘাটে বড়সড় চড়া পড়ে গিয়েছে। ফলে চড়ায় বসে গিয়ে খারাপ হয়ে যাচ্ছে লঞ্চ। অথচ যাত্রী পরিবহণ থেকে কোটি কোটি টাকা রোজগার হলেও জেটিঘাটগুলির সংস্কারে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। যাত্রীরা আগে অনেক ক্ষোভবিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন কবে হবে, সেটাই জানতে চান ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্ট সংস্থা তাদের বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে কিছুই স্পষ্ট করে জানায়নি। যান্ত্রিক গোলযোগের জন্য লঞ্চ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে, দ্রুত যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে বলে জানিয়েছেন মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি তিলক চক্রবর্তী। জানান, সোমবার বিকেল থেকে গেঁওখালি–নুরপুর ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে পড়েছে। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়েছে। নাব্যতার কারণেই লঞ্চ চড়ায় বসে যাওয়ার কারণে এমন সমস্যা হয়েছে। একই পরিস্থিতি রায়চক–কুঁকড়াহাটি ফেরি সার্ভিসের ক্ষেত্রেও। পরিষেবা স্বাভাবিক করতে বিষয়টি পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারীকে জানিয়েছি। দ্রুত যাত্রী পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top