গৌতম মণ্ডল, মথুরাপুর: পর পর দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে স্বামীর রোষে পড়েছেন বছর তেইশের সৌম্যশ্রী বণিক মণ্ডল। অভিযোগ, ১১ দিনের সদ্যোজাত মেয়েকে গলা টিপে খুনের চেষ্টা করেন বাবা। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে স্বামীর হাতে আক্রান্ত হয়েছেন সৌম্যশ্রী। বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি স্ত্রীর গায়ে প্রস্রাবও করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।  বাবার রোষ থেকে রেহাই পায়নি বড় মেয়ে ৪ বছরের তনুশ্রীও। এখবর পাওয়ার পর সৌম্যশ্রীকে নিজের কাছে এনে রেখেছেন মা প্রতিমা মণ্ডল। সোমবার সন্ধেয় জয়নগর থানায় স্বামী পার্থসারথি বণিকের বিরুদ্ধে মারধর ও খুনের চেষ্টার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা সৌম্যশ্রী। অভিযুক্ত পার্থসারথিকে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগ করা যায়নি।
মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুরের বাসিন্দা, মোজাইক মিস্ত্রি কাশীনাথ মণ্ডলের মেয়ে সৌম্যশ্রী। স্থানীয় কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বীরেশ্বরপুর কলেজে ভর্তি হন বিএসসি নিয়ে। ইতিমধ্যে বাড়ি থেকে পালিয়ে ইলেভেন পাস পার্থসারথিকে বিয়ে করেন সৌম্যশ্রী। জয়নগরের মায়া হাউড়ির সম্পন্ন বণিক পরিবারের গৃহকর্তা সূর্যকান্ত বণিক ব্যাঙ্ক কর্মচারী। তাঁর বড় ছেলে পার্থসারথি পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কলেজে পড়ার সময় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন সৌম্যশ্রী। অভিযোগ, সেই সময় একদিন পার্থসারথি স্ত্রীর সব বই পুকুরে ফেলে দিয়ে পড়া বন্ধ করতে বাধ্য করেন। প্রথমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সৌম্যশ্রী। বিয়ের পরেই সৌম্যশ্রীর কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেন স্বামী। এরপর পণের দাবিতে চলতে থাকে অত্যাচার। এরমধ্যে গত ৩১ জানুয়ারি দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সৌম্যশ্রী। পরপর ২ মেয়ে হওয়ায় স্বামীর অত্যাচার বাড়ে। অসহায় সৌম্যশ্রী বলেন,‘‌কেরিয়ার বিসর্জন দিয়ে ওর কথায় বাড়ি ছেড়েছিলাম। আমার থেকে ফোনও কেড়ে নিয়েছিল। অত্যাচারের শেষ ছিলনা। বিয়েটাও মানতে চাইছে না এখন। আবার বিয়ের করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। আবার মেয়ে হওয়ায় গলা টিপে খুন করতে আসে। বেধড়ক মারধর করে। আমি ওর শাস্তি চাই।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top