চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়,কালনা: ক্যাটালিনা জয় করে ‘সাগরকন্যা’ সায়নী দাস কালনায় পা রাখতেই আবেগ আর উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙল। সবাই একবার দেখতে চান, ছুঁতে চান সায়নীকে। ৩২ কিমি সাঁতরে ক্যাটালিনা জয়, তার ওপর দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্লান্তি। তবু হাসিমুখেই সায়নী ‘সহ্য’ করলেন সহ-নাগরিকদের বরণ পর্ব। কেউ মুখে ধরলেন কালনার বিখ্যাত মাখা সন্দেশ। শঙ্খধ্বনি দিলেন কেউ। কেউ ছুঁড়লেন ফুল। খুদে পড়শিরা আবার তাদের প্রিয় সায়নীদিদির পায়ে প্রণাম নামিয়ে দিল। ‘এত ভালবাসা, এমন আন্তরিকতায় আমি সত্যিই অভিভূত।’ বলেন সায়নী। বুধসন্ধ্যায় কালনায় পা রাখা থেকেই শুরু হয়েছে, বৃহস্পতিবারও সায়নীদের বারুইপাড়ার বাড়ির সামনে জনস্রোত থামার লক্ষণ নেই। 
সায়নীর পরবর্তী লক্ষ্য আপাতত বিএ প্রথম বর্ষের পরীক্ষা। তিনি বলেন, ‘‌পরপর তিনটে চ্যানেল পার হলাম। ২০১৬-য় ইংলিশ চ্যানেল, ২০১৭-য় রটনেস্ট আর এই ২০১৯-এ ক্যাটালিনা। এখন বিশ্রাম আর পড়াশোনা।’ ইতিহাসে অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন হুগলির শ্রীরামপুর কলেজে। সাঁতারের ঠাসা সূচিতে  পড়াশোনা বারেবারেই ব্যাহত হয়েছে। তাই কালনা কলেজে নেতাজি ওপেন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছেন। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শুরু সামনের ২৪শে জুন। দু’চারদিন শুয়ে বসে বইপত্র নিয়ে বসবেন সায়নী। ৩২ কিমি ক্যাটালিনা চ্যানেল পেরনোর পরীক্ষায় সসম্মানে উতরানো সায়নী এবার কলেজের পরীক্ষাটায় ভাল ফল করতে চান।
বিভিন্ন জায়গা থেকে সংবর্ধনার প্রস্তাব আসছে। আপাতত ১৮ জুন কালনার পুরশ্রী সভামঞ্চে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। কালনা অ্যামেচার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান গৌরাঙ্গ গোস্বামী বলছিলেন, ‘সায়নী কালনাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে।’ সায়নীর বাবা তথা প্রশিক্ষক রাধেশ্যাম দাস বলছিলেন, ‘তবে এখানে অনুশীলনের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকাটা বড় সমস্যা। পুকুরগুলো অনুশীলনের উপযুক্ত নয়। বাধ্য হয়ে গঙ্গায় ছুটতে হয়।’ তবে লক্ষ্য থেকে নড়ছে না সায়নী। 

বাড়িতে অভ্যর্থনা সায়নী দাসকে। কালনায়। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top