Exclusive Durga Puja 2022: সানাইয়ের সুর থেকে চোখ ধাঁধানো ঝাড়বাতি, আজও শোভাবাজার রাজবাড়ির জৌলুস নজরকাড়া

পল্লবী ঘোষ: তিথি অনুসারে, সেদিন কৃষ্ণা-নবমী।

বৃষ্টি-ধোয়া সকালে সানাইয়ের সুরে মাতোয়ারা চতুর্দিক। আশপাশের সরু অলিগলির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে সুর। শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপুজো শুরুর ইঙ্গিত বহন করে যে সুর। দেবীর বোধন দিয়েই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে রাজবাড়িতে। যুগের পর যুগ, বোধন থেকে বিসর্জনের আগের রাত পর্যন্ত এই সানাইয়ের সুরেই মিশে রয়েছে কত আবেগ, আনন্দ, উচ্ছ্বাস, মনকেমন। যার সাক্ষী লক্ষ লক্ষ মানুষ। 

 

শারদপ্রাতে ঠাকুর দালানে ধূপ-ধুনোর গন্ধ ছড়িয়ে। হলুদ লাল পেড়ে শাড়িতে বাড়ির উমা সেজেছেন। অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে সদস্যরা তখন দেবীর সামনে জড়ো হয়ে পুজোয় নিমগ্ন। ঠাকুর দালানের সাদা দেওয়ালে গাঢ় নীল রঙের ছোঁয়ায় অপূর্ব নকশা, ভিতরে পরপর ঝাড়বাতি সাজানো। ২৩৩ বছরের পুরনো এই বনেদি বাড়ির পুজোর জৌলুস আজও নজরকাড়ে শহরবাসীর। 

পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের পরাজয়ের পরে হিন্দুদের বিজয়োল্লাস উদযাপন করতে মহারাজা নবকৃষ্ণ দেব ১৭৫৭ সালে দুর্গাপুজো শুরু করেন। প্রথমে তাঁর দত্তক পুত্র গোপীমোহন দেবের বাড়িতে পুজো আরম্ভ হয়। এরও কয়েক বছর পর রাজা নবকৃষ্ণের নিজ পুত্র রাজকৃষ্ণ দেবের বাড়িতে পুজো শুরু হয়। এরপর থেকেই শোভাবাজার রাজবাড়ির ছোট তরফের পুজোকে 'মূল বাড়ির পুজো' বলেই মানেন সকলে। 

বাড়ির সদস্য সোনালি কৃষ্ণ ঘোষ জানালেন, পুজোর ক'দিন ছোট থেকে বড়দের সাবেকি সাজ থাকে। পুরুষ সদস্যরা ধুতি, পাঞ্জাবিতে, এবং মহিলারা শাড়িতে সেজে ওঠেন। এমনকী ছোটরাও শাড়ি পরে এই সময়। বছরে শুধুমাত্র এই ক'দিনই মা-ঠাকুমাদের স্মৃতি জড়ানো সোনার গয়না পরেন তাঁরা। প্রবীণ এক সদস্য দেবাশিস কৃষ্ণ দেব জানালেন, উমাকে পুজোর সময় রান্না করা ভোগ অর্পণ করা হয় না। ভোগে থাকে গোটা ফল, গোটা আনাজ, শুকনো চাল, কচুরি, খাজা, গজা, মতিচুর-সহ নানা ধরনের মিষ্টি। অতীতে মায়ের ভোগে থাকত ২৪ রকমের মিষ্টি, আর ১২ রকমের নোনতা। এখন কমিয়ে ১৬ রকমের মিষ্টি-নোনতা উৎসর্গ করা হয়। 

শুধুমাত্র ভোগ-প্রসাদেই নয়, কালে কালে বহু পুরনো রীতি-রেওয়াজ বদলে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন বাড়ির সদস্যরা। আরও এক প্রবীণ সদস্য জানালেন, রীতি অনুযায়ী দশমীতে বিসর্জনের আগে নীলকণ্ঠ পাখি উড়িয়ে মহাদেবের কাছে খবর পৌঁছনো হত, যে উমা ফিরছেন। কিন্তু বন দপ্তর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর থেকে জ্যান্ত নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয় না। তার বদলে শোলার তৈরি পাখি উড়িয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়াও পুজোর সময় রাজবাড়িতে পশুবলি হত। কয়েক বছর আগে সেই প্রথাও বন্ধ হয়ে গেছে। এককালে গঙ্গায় জোড়া-নৌকায় উমার বিসর্জন হত। যা দেখার জন্য ঘাটে ভিড় জমাতেন হাজার হাজার মানুষ। বর্তমানে সেই রীতিতেও বদল আনা হয়েছে। 

রীতির পরিবর্তন হলেও, রাজবাড়ির পুজো নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা ফিকে হয়নি আজও। গত দুইবছর, করোনাকালে ঠাকুর দালানে অবাধ প্রবেশাধিকার ছিল না। তবে এই বছরে আবারও কাছ থেকে বাড়ির উমার দর্শন পাবেন সকলে। 

আকর্ষণীয় খবর