Exclusive Durga Puja 2022: রাসমণির বাড়িতে সখীবেশে দেবীর আরাধনা করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ, কালের নিয়মে বদলেছে বহু রীতি

পল্লবী ঘোষ: কেটে গেছে প্রায় ২৫০ বছর।

এত যুগ পরেও মধ্য কলকাতায় রানি রাসমণির বাড়ির দুর্গাপুজো ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েনি। যে ঠাকুর দালানের মাটিতে মিশে রয়েছে প্রীতরাম দাস, তাঁর পুত্র রাজচন্দ্র দাস, রানি রাসমণি, শ্রীরামকৃষ্ণের পদধূলি। এই পুজোয় আড়ম্বর নয়, বরং ভক্তি সহকারে দেবীর আরাধনাই চোখে পড়ার মতো ছিল, এখনও তাই রয়েছে।

 

আমতার ঘোষালপুর গ্রামে বেড়ে ওঠা। তারপর কাজ খুঁজতে খুঁজতে কলকাতায় পা রাখেন প্রীতরাম দাস। কয়েকবছরের মধ্যে জানবাজারে বানান প্রাসাদের মতো বাড়ি। যা বানাতেই সময় লেগেছিল ১০ বছর। এই বাড়ির দালানে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেন তিনি। ১৭৯২ সালে। এরপর বাড়ির দুর্গাপুজোর দায়িত্ব পড়ে পুত্র রাজচন্দ্রের উপর। তাঁর মৃত্যুর পর দায়িত্ব আসে রানি রাসমণির কাঁধে। সেই রীতি-রেওয়াজ মেনে এরপর থেকে মথুরামোহন এবং জগদম্বা একই ধারায় পুজো করেন। তাঁদের সময়কালেই এখানে একাধিকবার সখীবেশে দেবীর আরাধনা করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। শাড়ি পরে, চামর দুলিয়ে, এমনভাবে তিনি আরাধনা করেছিলেন, যে তাঁকে দেখে চিনতেও পারেননি মথুরামোহন সহ বাড়ির মহিলা সদস্যরা। 

বাড়ির সদস্য প্রসূন হাজরা জানান, রাসমণির এই বাড়ির পুজো শুরু হয় প্রতিপদ থেকে। কাঠামো পুজো হয় রথের দিন। তপ্ত কাঞ্চন বর্ণের দেবীকে ডাকের সাজে সাজানো হয়। লক্ষ্মীর সোনালি এবং সরস্বতীর বর্ণ হয় সাদা। শিল্পীদের পাশাপাশি বাড়ির সদস্যরাও দেবীকে রাঙিয়ে তোলায় সামিল হন। পুজো আগে শুরু হলেও, ষষ্ঠীতে মায়ের হাতে অস্ত্র দেওয়া হয়। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী, তিনদিনই কুমারী পুজো হয়। 

তিনি আরও জানান, এই বাড়িতে দেবীকে অন্নভোগ দেওয়া হয় না। ষষ্ঠী থেকে মায়ের ভোগে থাকে লুচি, পাঁচরকম ভাজা, খাজা ,গজা, বোঁদে, নাড়ু, সন্দেশ। বিশেষত সন্ধিপুজোর সময় ১ মণ চালের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। প্রসূন হাজরা জানান, কালে কালে এই বাড়ির পুজোর কিছু রীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন অতীতে দুর্গাপুজোর সময় সাতটি পাঠা-বলি দেওয়া হত। সেই মাংস ভোগেও দেওয়া হত। কিন্তু ২০০৩ সাল থেকে নিয়মের পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন আর পশুবলি দেওয়া হয় না। তাছাড়াও আগে সন্ধিপুজোর সময় ৪০ মণ চালের নৈবেদ্য দেওয়া হত। সেখান থেকে কমিয়ে ১ মণ চালের নৈবেদ্য অর্পণ করা হয়। 

ইতিহাস বিজড়িত বাড়ির সদর দরজা সর্বসাধারণের জন্য চিরকাল খোলা রয়েছে। এমনকী করোনাকালেও বাড়ির অভ্যন্তরে ঢুকতে কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। মায়ের কাছাকাছি যেতে না পারলেও, দালানে দাঁড়িয়ে দেবী দর্শন করার সুযোগ পেয়েছেন প্রত্যেকে। এবারেও তার অন্যথা হবে না। 

আকর্ষণীয় খবর