Exclusive Durga Puja 2022: ৩০০ বছরের পুরনো পুজো, আজও চিরন্তন রীতির পরিবর্তন হয়নি হরকুটির রায় ব্যানার্জি বাড়িতে

পল্লবী ঘোষ: ঠাকুর দালান জুড়ে আজও পুরনো কলকাতার গন্ধ।

কত ইতিহাসের, সংগ্রামের, পরিবর্তনের সাক্ষী পাথুরিয়াঘাটার হরকুটির রায় ব্যানার্জি বাড়ি। যে বাড়ির বয়স ২৭৭। কিন্তু দুর্গাপুজোর চল শুরু তারও বহু আগে। তখন উত্তর কলকাতা কংক্রিটের জঙ্গলে ছেয়ে যায়নি। সুতানুটি একেবারে গ্রাম। মাটির বাড়িতেই প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয়। রাধাকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পাথুরিয়াঘাটার নতুন বসতবাড়িতে শুরু হয় পুজো। এরপর হরপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর থেকে মাটির তৈরি দেবীর আরাধনা শুরু হয় হরকুটিরে। 

 

 

 

 

হরকুটির রায় ব্যানার্জি বাড়ির সদস্য অর্চিষ্মান রায় ব্যানার্জি জানালেন, সুতানুটির চিহ্ন এখনও এই বাড়িতেই রাখা। সারাবছর হর ও হরি সেবা পান এই বাড়িতে। দেবীর আরাধনা করা হয় সুতানুটি গ্রামের মাটির উপরেই। তিনি জানালেন, বহু বছর আগে দেবীকে মাটির আর গোবরের বেদিতে বসিয়ে আরতি করা হত। এখনও যে আসনে মায়ের আরাধনা হয়, তার নীচে রয়েছে সুতানুটি গ্রামের মাটি। যা ঘিরে বাড়ির সদস্যদের মতোই আবেগে ভাসেন দর্শনার্থীরাও। 

৩০০ বছরের বেশি পুরনো দুর্গাপুজোয় রীতি-রেওয়াজের বিশেষ পরিবর্তন হয়নি, জানালেন অর্চিষ্মান। তাঁর কথায়, কলকাতার অন্যতম পুরনো পুজোর সাক্ষী থাকার পাশাপাশি, মায়ের ভোগ-প্রসাদের টানেও বহু মানুষের ভিড় জমে ঠাকুর দালানে। কী কী থাকে মায়ের প্রসাদে? তিনি জানালেন, মহালয়ার পর থেকে দেবীর আরাধনা শুরু হয়। এই বাড়িতে অন্নভোগের রেওয়াজ রয়েছে। সকালের ভোগে থাকে খিচুড়ি, পাঁচ ভাজা, পায়েস, আরও কয়েকটি বিশেষ তরকারির পদ। তবে রাতের ভোগে অন্য বিশেষত্ব রয়েছে। হরকুটিরে মায়ের ভোগে অন্যতম পুরনো পদ হল চন্দনী ক্ষীর। যা আজও বাড়ির সদস্যরা একই নিয়মে বানিয়ে দেবীকে নিবেদন করেন। 

অর্চিষ্মান জানালেন, পুজোর সময় মা-কে ১৬ গণ্ডায় লুচি দেওয়া হয়। প্রতি গণ্ডায় একটি করে বেগুন ভাজা এবং একটি পাত্রে চন্দনী ক্ষীর দেওয়া হয়। মহালয়ার পর থেকে নবমী পর্যন্ত মায়ের ভোগ খেয়েই থাকেন বাড়ির সদস্যরা। দশমীর দিন আমিষ আহার হয়। বনেদি বাড়ির পুজোগুলোর মধ্যে সবার আগে হরকুটিরের দেবী বিসর্জন হয়। দশমীর দিন বিসর্জনের আগে বাড়ির সদস্যরা মাছ খান। মাছ খেয়েই মহিলা সদস্যরা দেবীবরণ করেন। অন্যদিকে মা কিন্তু দশমীর দিন বাসি অন্নভোগ খেয়েই বিদায় নেন। নবমীর দিন রান্না করা ভোগে যা থাকে, যেমন, ভাত, শাকভাজা, পাঁচরকমের ভাজা এবং বাসি পান্তাভাত খেয়ে দশমীতে রওনা হন। 

পুরনো রেওয়াজের গল্প বলতে বলতেই অর্চিষ্মান এও জানান, গত দুই বছর বাড়ির পুজোয় অঞ্জলি এবং ভোগ-প্রসাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এবার যেহেতু করোনা-আতঙ্ক কেটে গেছে, তাই সর্বসাধারণের জন্য বসে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

আকর্ষণীয় খবর