Exclusive Durga Puja 2022: বনেদিয়ানা ও আধুনিকতার মিশেল, পুজোর ক'দিন নাচ-গানে জমজমাট ভবানীপুর মল্লিক বাড়ি

পল্লবী ঘোষ: শারদ-দুপুরে হইহই, রইরই কাণ্ড।

ভবানীপুরের মল্লিক বাড়ির ঠাকুর দালানের আনাচে কানাচে খুশির রেশ। কারণ বছর ঘুরে মা আসছেন। মাথার উপর নীল আকাশে তুলোর মতো মেঘ। দুপুরের রোদে অপূর্ব নকশা বারান্দাজুড়ে। দেবীর গায়ে রঙের প্রলেপ তখনও লাগেনি। তবুও আগমনীর গন্ধ ছড়িয়ে দালান জুড়ে। দেবীর সামনে দুই প্রজন্মের সদস্যরা একজায়গায় জড়ো হয়েছেন। যেখানে বনেদিয়ানার সঙ্গে আভিজাত্য আর আধুনিকতার মিশেল চোখে পড়ার মতো। 

 

৯৮ বছর আগে মল্লিক বাড়ির পুজো শুরু হয়। প্রথমে বর্ধমানের শ্রীখণ্ড, সেখান থেকে হুগলির গুপ্তিপাড়া, তারপর কলকাতার ভবানীপুরে। বাড়ির সদস্যা উমা মল্লিক জানালেন, 'আমাদের বাড়িতে জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজো হয়। প্রতিপদাদিকল্প অনুসারেই এই বাড়িতে পুজোর চল। মহালয়ায় চক্ষুদান। বোধন শুরু হয় মহালয়ার পরেই।' 

আরেক সদস্যা অঞ্জনা মল্লিক জানান, 'বৈষ্ণব রীতি মেনে পুজো হয় বলে বাড়িতে পশুবলির প্রচলন নেই। পুজোর ক'দিন দেবীকে অন্নভোগ দেওয়া হয় না। মায়ের ভোগে থাকে লুচি, ভাজা, ফল, মিষ্টি। নজরকাড়া ফুলের সাজে দু'বেলা দেবীকে সাজানো হয়। কখনও পদ্ম, কখনও বা গোলাপ, আবার কখনও জুঁই ফুলের মালায় সেজে ওঠেন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ। বাড়ির সকল সদস্যরা এই সময় নিরামিষ আহার করেন। দশমীতে দেবী বিসর্জনের পর বিশেষ রীতি মেনে তারপর আমিষ খাওয়ার চল রয়েছে।' 

কী সেই বিশেষ রীতি? সুজাতা মল্লিকের কথায়, 'দশমীতে দেবীকে বরণ করার পর সিঁদুর খেলেন মহিলা সদস্যরা। অন্যদিকে বাড়ির পুরুষরা সকলে মিলে বিশেষ ধরনের নাচে সামিল হন। অষ্টমী এবং নবমীর সন্ধেতেও এই ধরনের নাচ করতে দেখা যায় পুরুষ সদস্যদের। বিসর্জনের পর বাড়ি ফিরে কূলদেবতাকে প্রণাম করে, তারপর হেঁশেলে আমিষ রান্না হয়। দশমীর দুপুরে সকলের পাতে থাকে ঝুরঝুরে ভাত, ডাল, আলুভাজা, মেটে চচ্চড়ি, মাংস, বোঁদে।' 

দেবশ্রী মল্লিক বললেন, 'সারাবছর এই সময়টার দিকে মুখিয়ে থাকি আমরা সকলে। বছরভর কেনাকাটা চলতে থাকে। পাটভাঙা শাড়ি, সঙ্গে নতুন গয়না। উৎসবের দিনগুলোয় বাড়িতে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়। দূরদূরান্ত থেকে পুজোর সময় সকলে ছুটে আসেন। দালানে নাটকও হয়। ব্যস্ততার কারণে বিশেষ প্রস্তুতির সময় মেলে না। ষষ্ঠী থেকে অষ্টমী মহড়া দিয়েই নবমীর সন্ধেয় অনুষ্ঠান। সংলাপ ভুলে গেলেও, তা ঘিরেও সদস্যদের উন্মাদনা থাকে তুঙ্গে।' 

পুরনো রীতি-রেওয়াজের গল্প বলতে বলতে দুপুরে জমজমাট আড্ডায় মশগুল হন সকলে। সেই আড্ডায় অন্য মাত্রা যোগ করে প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী প্রমিতা মল্লিকের কণ্ঠে আগমনী গান। কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের গান তাঁর গলায়। দালানে তখন হঠাৎ নিঃস্তব্ধতা। উদাত্ত কণ্ঠে গেয়ে উঠলেন, 'গিরিরানি, রানি এই নাও তোমার উমারে...'। মনে হল, এই গানই যেন মল্লিক বাড়ির দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করল। 

আকর্ষণীয় খবর