বিস্ফোরণে আহত প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেনের পায়ে অস্ত্রোপচার, কোয়েম্বাটুরের হাসপাতালে

আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের শ্রম দপ্তরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের বাম পায়ে শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হল কোয়েম্বাটুরের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে। সকালবেলা অপারেশনের পর এখন অনেকটা সুস্থ রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন এই মন্ত্রী। সূত্রের খবর শুক্রবার বিকেলে তাকে জেনারেল বেডে দেওয়া হতে পারে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতাতে তৃণমূলের একটি বৈঠকে যোগ দিতে আসার জন্য জাকির হোসেন নিমতিতা স্টেশনে যান। সেখানে ট্রেন ধরতে যাওয়ার সময় দু’‌ নম্বর প্লাটফর্মে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সেই বিস্ফোরণের ঘটনায় মন্ত্রীর বাম পা গুরুতরভাবে জখম হয়। এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতে জাকির হোসেন ছাড়াও প্রায় ২৪ জন আহত হয়েছিলেন।
 দীর্ঘ দিন কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন জঙ্গিপুরের প্রাক্তন বিধায়ক জাকির হোসেন।
এই বছর বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গিপুর কেন্দ্র থেকে মমতা ব্যানার্জি আবারও জাকির হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছেন।আহত অবস্থায় ডাক্তারদের বিশেষ অনুমতি নিয়ে হেলিকপ্টার করে মুর্শিদাবাদে এসে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছিলেন জাকির হোসেন।  কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কোভিড অতিমারীর জন্য ওই কেন্দ্রে নির্বাচন  আপাতত বন্ধ রয়েছে।
জাকির হোসেনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর পায়ে ৭-৮ টি অস্ত্রোপচার হয়েছে।কিন্তু এখনও রাজ্যের প্রাক্তন এই মন্ত্রী ঠিকভাবে হাঁটতে পারছেন  না। কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তারও তাঁকে দক্ষিণ ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
গত বুধবার সকালে বিশেষ বিমানে জাকির হোসেন দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসার জন্য উড়ে গেছেন এবং সেখানে গিয়ে কোয়েম্বাটুরের হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার ওই হাসপাতালের ডাক্তাররা মন্ত্রীর পায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার করেন।
জাকির হোসেনের পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর জাকির হোসেনের জ্ঞান ফিরে এসেছে এবং তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন। তাদের আশা, আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে হয়ত জাকির হোসেন  হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন।
মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র গৌতম ঘোষ বলেন, ‘‌বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মন্ত্রীর বাম পা গুরুতরভাবে জখম হয়েছিল। তারপর থেকে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন। আরও ভালো চিকিৎসার জন্য তাকে দক্ষিণ ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন।’‌ 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নিমতিতা স্টেশনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে এসআইটি , এসটিএফ  এবং সিআইডি–র বিশেষ তদন্তকারী দল গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করে। যদিও তারপরে এই গোটা বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে এনআইএ।
নিমতিতা বিস্ফোরণকাণ্ডে সিআইডির হাতে দু’‌জন গ্রেপ্তার হলেও এনআইএ তদন্তভার গ্রহণ করবার পর নতুন করে আর কেউ গ্রেপ্তার হননি। তবে নিমতিতা স্টেশন, জঙ্গিপুর এবং তার আশেপাশের এলাকায় গিয়ে এবং কলকাতাতে ডেকে তদন্তকারীরা একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুতির বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস।