আজকালের প্রতিবেদন: আইটি সেল। সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়বাড়ন্তের পর থেকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই শব্দবন্ধ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আইটি সেল মানে এক বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত গোষ্ঠী, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও দল, সংস্থার প্রচার ও প্রসারের দায়িত্ব সামলায়। আর এই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি–‌র বাড়বাড়ন্ত হওয়ার পর থেকেই আইটি সেলের নাম খারাপ হয়েছে দ্রুত। ভুয়ো খবর, ফটোশপ–‌করা ছবি— এসব দিয়েই হাজিরা জাহির করতে নাকি ওস্তাদ গেরুয়া শিবিরের এই আইটি সেল। আরও শোনা যায়, এর জন্য মাইনে–‌করা লোক রেখেছে বিজেপি। তঁাদের কাজই গেরুয়া–‌বিরোধী পোস্টে গিয়ে আক্রমণ করা। ওদিকে, ঘাসফুল শিবিরের ছবিটা একেবারে উল্টো। এখানে সবটাই রাজনৈতিক তাগিদ। বিজেপি–‌র মতো কোনও বেতনভুক কর্মী নন, নেত্রী ও দলকে ভালবেসেই এ কাজ করছেন সমর্থকেরা। সাইবার সেলের সদস্যরা অন্তত তেমনই জানাচ্ছেন। স্বাভাবিক ভাবে আবেগ আর দলের প্রতি অনুগত্যের কাছে হার মানতে হচ্ছে বিজেপি–‌কে।
একাধিক গ্রুপ, পেজ থেকে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তৃণমূলের নানা প্রচার–‌পোস্ট। এসবের পেছনে রয়েছে দলের সাইবার সেল। ঘাসফুল শিবিরের সাইবার সেলের আওতায়–‌থাকা অন্যতম গ্রুপের নাম অল ইন্ডিয়া তৃণমূল সাইবার কম্যান্ড। গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করছেন দেবাশিস দত্ত, প্রশান্ত সিন্‌হা। সেখানে রয়েছেন অসংখ্য সদস্য। জনপ্রিয় হয়েছে ‘‌ফ্যাম’‌ নামে একটি গ্রুপও। যেখানে আছেন প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ সদস্য। নির্বাচনের প্রচারে এই গ্রুপে সদস্যরা ছড়িয়ে আছেন জেলায় জেলায়। তৃণমূল সাইবার কম্যান্ড ফোরাম (‌টিসিএফ)‌ নামে একটি গ্রুপও কাজ করছে মূলত হোয়াট্‌সঅ্যাপ ও ফেসবুকে, যারা ব্যক্তিগত ভাবে মানুষের কাছে তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্যুগুলি পৌঁছে দিচ্ছেন। কাজ করছেন সমীরণ চ্যাটার্জি, রাখী গাঙ্গুলি, দেবব্রত বক্সি, গোপাল কোনার, এসএম ফৈয়াজ, বিকাশ ব্যানার্জি, প্রিয়া দত্তের মতো অসংখ্য সদস্য। উল্লেখ্য, দলের আইটি সেলের দায়িত্ব প্রাথমিক ভাবে ডেরেক ও’‌ব্রায়েনকে দিলেও, পরে সেই দায়িত্বই মমতা ব্যানার্জি দিয়েছিলেন কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরি ও সুপর্ণ মৈত্রের ওপর। তঁারা এসে নতুন করে সাজিয়ে তোলেন তৃণমূল আইটি সেল।
শুধু গ্রুপ নয়, একক ভাবেও জনপ্রিয় হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বাঙালি জাতীয়তাবাদ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সরব গর্গ চ্যটার্জি। শুধু ফেসবুকে নয়, ‘বাংলা পক্ষ’ নামে সংগঠন তৈরি করে তিনি মাঠে নেমে বাংলা ভাষা, বাঙালি আত্মপরিচয়ের লড়াই চালাচ্ছেন। সেখান থেকেই বিজেপি–‌র হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দিশা খুঁজে পেয়েছেন তিনি। আছেন ঘোষিত তৃণমূলের সমর্থক ও বিজেপি–‌বিরোধী সোশ্যাল মিডিয়া সেলেব্রিটি দেবাংশু। তঁার তৈরি ভিডিও ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপে প্রায়শই ঘুরে বেড়ায়। তীব্র ভাষায় বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে তঁার পোস্ট–‌করা এক–‌একটি ভিডিও জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যায়। দেবাংশু জানালেন, ‘‌নোট বাতিলের সময়   মোবাইল খুলে ভিডিও করেছিলাম। দেখলাম, অনেক মানুষ সেটা শেয়ার করছেন। তার পর থেকে একে একে ভিডিও পোস্ট করতে থাকি মমতা ব্যানার্জির সমর্থনে। আমার মতো অনেকে আছেন যঁারা তৃণমূলকে সমর্থন করেন, কিন্তু সরাসরি রাজনীতি করতে পারেন না। তঁারা অবসরে যে যেভাবে পারেন ফেসবুকে বিজেপি–‌র পেশিশক্তি, অর্থবলে চালিত আইটি সেলের বিরুদ্ধে ও মমতা ব্যানার্জির সমর্থনে ভিডিও করেন, লেখেন। আমরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালবাসা থেকেই দিনের পর দিন এ কাজ করে চলেছি।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top