অমিতাভ বিশ্বাস, করিমপুর, ১৮ নভেম্বর- করিমপুর উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে সোমবার প্রচার করলেন অভিনেতা সোহম। করিমপুর ২ ব্লক এলাকার শিশা গ্রামের ফুটবল মাঠ থেকে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়কে নিয়ে হুডখোলা জিপে করে রোড–শো শুরু হয়। শিশা গ্রাম থেকে ধোড়াদহ, সাহেবপাড়া, দোগাছি, পিপুলখোলা গ্রাম ঘুরে নতিডাঙা এলাকায় রোড–শো শেষ হয়। এর পর বিকেলে করিমপুর ১ ব্লক এলাকার যমশেরপুর গ্রাম থেকে রোড– শো শুরু হয়ে বঁাশবেড়িয়া, মুক্তদহ, হরিপুর আরবপুর, গোপালনগর গ্রাম ঘুরে সুন্দলপুর গ্রামে শেষ হয়। রাস্তার দুই ধারে প্রচুর মানুষ হাত নেড়ে প্রার্থী, অভিনেতা ও সাংসদকে অভিবাদন জানান। 
এদিন রোড–শোয়ের কথা শুনে রাস্তার দু’‌ধারে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই সঙ্গে তৃণমূল কর্মীরা প্রায় সারা রাস্তা জুড়ে ফ্ল্যাগ–ফেস্টুন নিয়ে বিশেষ বিশেষ জায়গায় দঁাড়িয়ে থেকে প্রার্থীকে সংবর্ধনা জানান। করিমপুর ২ ব্লকের শিশা গ্রামের ফুটবল মাঠে সকাল থেকেই কর্মীরা হাজির হয়েছিলেন। অন্যদিকে, করিমপুর ১ ব্লকের যমশেরপুর গ্রামেও একই চিত্র ফুটে উঠেছিল। রোড–শো চলাকালীন তৃণমূল কর্মী–সমর্থকদের মুখে শোনা যায়, ‘‌সোহম শুধু বড় অভিনেতা নন, তিনি আমাদের দলের একজন বড় মাপের কর্মী।’‌
সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘‌দুপুর থেকে যখন আমাদের যাত্রা শুরু হয়, তার আগে ভেবেছিলাম গ্রামগঞ্জের কৃষিজীবী মানুষ আমাদের প্রচার সম্পর্কে হয়তো অবগত নন। কিন্তু রোড–শো যত এগোতে থাকে, ততই মানুষের উৎসাহ–উদ্দীপনা, আবেগ আমরা লক্ষ্য করছি। মানুষ আমাদের কাজ দেখে ভোট দেবেন। তাই উপনির্বাচনে আমাদের জয় যে নিশ্চিত, সে কথা বলতে আর কোনও দ্বিধা নেই।’‌          

 

প্রদীপ কাজ করবেন, ধারণা খড়্গপুরের  ব্যবসায়ীদের

আজকালের প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ১৮ নভেম্বর- বিধায়ক থেকে সাংসদ হওয়া দিলীপ ঘোষ এসে রবিবার ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। সোমবার সেই গোলবাজারে এসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভোট প্রচার করলেন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। এদিন চিত্রটা ছিল একেবারে উল্টো। তৃণমূল প্রার্থী একের পর দোকানে ঢুকতেই ব্যবসায়ীরা হাসিমুখে এগিয়ে আসেন। কেউ জড়িয়ে ধরেন। কেউ শুভেচ্ছা জানান। প্রদীপবাবু তঁাদের জানান, মানুষের উন্নয়ন করাই তৃণমূলের একমাত্র লক্ষ্য।‌ সুরেশ ভাদোরিয়া নামে এক ব্যবসায়ী সাফ বলেন, ‘‌দিলীপবাবু আশ্বাস দিয়ে ভোট চাইতে এসেছিলেন। আর প্রদীপ সরকার কাজ করে ভোট চাইতে এসেছেন। কী করতে হবে, আমরা জানি।’ সাড়ে তিন বছর খড়্গপুরের বিধায়ক ছিলেন বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অভিযোগ, এতদিনে খড়্গপুরের কোনও সমস্যা নিয়ে তিনি বিধানসভায় একটিও প্রশ্ন করেননি বা এলাকার কোনও সমস্যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীদের জানাননি। সাড়ে ৪ বছর ধরে খড়্গপুর পুরসভার পুরপ্রধান রয়েছেন প্রদীপ সরকার। রেলের বঞ্চনা থাকলেও রাজ্য পুর ও নগরায়ন দপ্তর থেকে বিভিন্ন প্রকল্প এনে প্রচুর উন্নয়ন করেছেন খড়্গপুরের। খড়্গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রের বড় সমস্যাগুলির একটি হল খড়্গপুর শহরের রেলওয়ে এলাকার উন্নয়ন। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে সঠিক উন্নয়ন সম্ভব হয়নি।

 

করিমপুরে তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহরায়ের সমর্থনে প্রচারে অভিনেতা সোহম ও সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ছবি: রমণী বিশ্বাস

জনপ্রিয়

Back To Top