আজকালের প্রতিবেদন: উচ্চমাধ্যমিকের বাকি থাকা তিনটি পরীক্ষার কেন্দ্র যাতে পরীক্ষার্থীদের বাড়ির কাছাকাছি করা যায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। একই সঙ্গে তিনি জানান, ৩০ জুন পর্যন্ত স্কুলের পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ থাকবে। কোভিড–১৯ নিয়ে যে নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে তা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমফানে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্যও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে আলাদা অর্থবরাদ্দের দাবি জানানো হবে।
উচ্চমাধ্যমিকের বাকি থাকা শেষ তিন দিনের পরীক্ষা হবে ২৯ জুন এবং ২ ও ৬ জুলাই। রবিবার উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌পরীক্ষাকেন্দ্র যতটা সম্ভব পরীক্ষার্থীদের বাড়ির কাছাকাছি করার কথা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদকে বলেছি। তারা এ ব্যাপারে যতটা সম্ভব করা যায় তা দেখছে।’‌ ৩ হাজার কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। স্বাস্থ্যবিধি এবং পারস্পরিক দূরত্ববিধি মেনে চলার জন্য পরীক্ষার কেন্দ্র আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানান তিনি। আরও জানান, একটা কেন্দ্রে ৮০ থেকে ১০০–র বেশি পরীক্ষার্থী যেন না হয়, একটা বেঞ্চ ছেড়ে যাতে পরীক্ষার্থীরা বসতে পারে, সেটা দেখা হচ্ছে। আমফানে দুই ২৪ পরগনা–সহ ৮টি জেলার ৪০০–রও বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

 

তার মধ্যে ১১৭টি স্কুলে পরীক্ষা নেওয়ার অবস্থা নেই। প্রয়োজনে কলেজেও উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার কেন্দ্র করা হতে পারে।
কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা নিয়ে বলেন, ‘‌৩০ জুন পর্যন্ত কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগ বন্ধ থাকবে। তবে প্রশাসনিক বিভাগ খোলা থাকবে। কীভাবে এই প্রশাসনিক বিভাগগুলি খোলা রাখা হবে, কতজন কর্মী নিয়ে এই বিভাগগুলি চলবে তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করবে।’‌ কলেজের পরীক্ষা নিয়ে বলেন, ‘‌বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিজেদের মতো পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তবে যখনই পরীক্ষা হোক, স্বাস্থ্য এবং পারস্পরিক দূরত্ববিধি মেনে হবে। পরীক্ষার হলে একজনের কলম অন্যজন ব্যবহার করবে না। পরীক্ষার সঙ্গে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের জীবন রক্ষা করা ও সুস্থ রাখাটাও সমান জরুরি।’‌ প্রসঙ্গত, কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা নিয়ে উচ্চশিক্ষা সচিব মণীশ জৈন ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। করোনা সঙ্কটে পাঠ্যক্রম শেষ হওয়া, পরীক্ষা ইত্যাদি নিয়ে পড়ুয়া এবং অভিভাবকরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এই উদ্বেগ দূর করতে দপ্তরের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিকে নির্দিষ্ট পরিকাঠামো গড়ে তুলতে বলা হয়েছে। যেখানে পড়ুয়ারা তাঁদের উদ্বেগ বা অভিযোগ জানালে সমাধান করা যাবে। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের কলেজ, সেমেস্টার, পরীক্ষা–সহ অন্যান্য ফি দেওয়ার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে এবং সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর যাতে ফি দেওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top