‌বিজয়প্রকাশ দাস, পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের ঐতিহাসিক স্মারকের কার্জন গেট ওপর যত্রতত্র বাড়ছে বট–অশ্বত্থ–সহ বিভিন্ন ধরনের আগাছা। গাছের শিকড় ক্ষতি করছে ঐতিহ্যের এই স্থাপত্যের। যানবাহনের কালো ধোঁয়াও স্মারকের গায়ে ছোবল মারছে। সৌধের ওপরে ইতালিয়ান তিনটি মডেলের মধ্যে একটি মডেলের হাতের কব্জিও ভেঙে গেছে। আর পায়রার বিষ্ঠায় অপরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে গোটা স্মারকটি। তাই প্রাচীন এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন বর্ধমানবাসী।
শহরের বিশিষ্ট নাগরিক–ইতিহাসবিদ নীরদবরণ সরকারের কথায়, ‘‌ইংরেজ শাসনকালে ১৯০৪ সালে ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জনের সম্মানে এই স্মারকটি বহু অর্থ ব্যয় করে তৈরি করেছিলেন মহারাজা বিজয়চঁাদ মহতাব। তখন রাজকীয়ভাবে লর্ড কার্জনকে সম্মান জানানো হয়। ওই সময় প্রথমে এই স্মারকটির নাম ছিল ‘স্টার অফ ইন্ডিয়া গেট’। পরবর্তীকালে এর নামকরণ হয় ‘কার্জন গেট’। তার পর কংগ্রেস শাসনকালে পূর্তমন্ত্রী ভোলা সেনের সময় ফের কার্জন গেটের নামকরণ করা হয়েছে ‘বিজয় তোরণ’। তবে বর্ধমানের সাধারণ মানুষ একে কার্জন গেট বলে থাকেন। এটি একটি ঐতিহাসিক স্মারক। পূর্ব বর্ধমানের প্রবেশ পথ। তাই এই প্রাচীন স্মারককে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের। এটি দেখাশোনার জন্য যঁারা দায়িত্বে আছেন, তঁাদের অবিলম্বে এই স্মারকটিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনা এবং সংরক্ষণ করা উচিত।’‌ সদর মহকুমা শাসক বর্ধমান পুরসভার প্রশাসক পুষ্পেন্দু সরকার এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‌কার্জন গেটটি দেড় থেকে দু’বছর অন্তর পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে বর্ধমান পুরসভা। তাই এটি দেখভালের জন্য পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত যে আধিকারিক রয়েছেন, তঁাকে বলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের সেখানে পাঠাবেন। তঁারা দেখেশুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’‌‌
বর্ধমানবাসীর দাবি, কোনও রাজনৈতিক দলই যেন কার্জন গেটের সামনে কুশপুতুল ও টায়ার জ্বালানোর অনুমতি না পায়। কারণ, ঘনঘন রাজনৈতিক দলগুলি এখানে কুশপুতুল জ্বালানোর কর্মসূচি নেয়। বিগত দিনে দেখা গেছে, জিটি রোডে বিজেপি–র এক পথ অবরোধ কর্মসূচিতে একগুচ্ছ টায়ার জ্বালানোয় ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল কার্জন গেট। সেই সময় জিটি রোডের ওপরই টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন বিজেপি কর্মীরা। এতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ঘন কালো ধোঁয়ায় চারদিক ভরে যায়। ঢেকে যায় প্রাচীন ঐতিহ্য স্মারক কার্জনগেটও। এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পথচলতি মানুষ, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও বুদ্ধিজীবীরা। তঁাদের বক্তব্য, ইন্ডিয়া গেটের মতোই কার্জনগেট এই জেলার অন্যতম ঐতিহ্যপূর্ণ স্মারক। এটি দেশ তথা রাজ্যেরও গর্বের বিষয়। তাই এটির রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।

জনপ্রিয়

Back To Top