চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়,কাটোয়া: পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার ২ নং ব্লকের নতুনগ্রামের দারুশিল্প, মঙ্গলকোট ব্লকের বনকাপাসির শোলাশিল্প, রায়না ব্লকের জরিশিল্প, আউশগ্রাম ১ নং ব্লকের দারিয়াপুরের ডোকরা শিল্পের খ্যাতি এখন রাজ্য–দেশ অতিক্রম করে বিদেশেও পৌঁছেছে। এই সমস্ত দৃষ্টিনন্দন হাতের কাজকে নির্দিষ্টভাবে বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জেলা শিল্পকেন্দ্র। এর ফলে জোড়া উদ্দেশ্য সফল হবে। এই শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁদের রুটি–রুজির সংস্থান হবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে আগ্রহী হবে। আর রাজ্যের শিল্পসৃষ্টিকে বাইরের জগতে পৌঁছে দেওয়া যাবে।
শুধু পরিকল্পনা করেই ক্ষান্ত থাকেনি জেলা শিল্পকেন্দ্রের কর্মকর্তারা। বিদেশে রপ্তানির নানা দিক নিয়ে ইতিমধ্যেই ৪০ জন হস্তশিল্পীকে নিয়ে বৈঠক করেছেন শিল্পকেন্দ্রের কর্তারা। শিল্পসামগ্রীর গুণগত মান বজায় রেখে কীভাবে বিদেশে রপ্তানি করা যাবে, সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেবে শিল্পকেন্দ্র। এমনিতেই জেলার শোলাশিল্প, ডোকরাশিল্প, দারুশিল্পের টানে বিদেশের বহু শিল্প রসিক এখানে আসেন। বহু শিল্পসামগ্রী কিনে নিয়ে যান। এই প্রক্রিয়াটিকে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বাঁধার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বর্ধমান জেলা পরিষদের সহসভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, ‘রাজ্য সরকারও এইসব শিল্পসামগ্রী বিদেশে রপ্তানির জন্য সবরকম সহযোগিতা করার নিশ্চয়তা দিয়েছে।’ 
সহযোগিতার অঙ্গ হিসেবে কলকাতা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা–সহ বাগডোগরা বিমানবন্দর, দার্জিলিং, নয়াদিল্লি, হায়দরাবাদের বিশ্ববাংলা শোরুমে এইসব শিল্পসামগ্রী মিলছে। বিভিন্ন সরকারি মেলায় এইসব শিল্পসামগ্রীর স্টলের বন্দোবস্ত করে দিয়েছে সরকার। বিক্রিবাটাও ভাল হচ্ছে। ২০১৭–১৮ বছরে মোট ১১ হাজার ৩৪৮ জন শিল্পী বিভিন্ন সরকারি মেলায় যোগ দিয়েছেন। জেলা থেকেও শিল্পীদের নিয়ে কর্মশালা সংগঠিত হয়েছে। বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিল্পীরা।

কাঠের মূর্তি। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top