আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ করোনার প্রভাবে ধুঁকছে অর্থনীতি। নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্তর। আধপেটা খেয়ে দিন কাটছে বহু মানুষের। মহামারীর প্রভাব পড়েছে পুজোতেও। বারোয়ারি পুজোর জাঁক কমেছে। বাড়ির পুজোও ব্যতিক্রম নয়। 
করোনার কারণে অনেক পরিবারেরই প্রবাসী সদস্যরা ঘরে ফিরতে পারেননি। লোকবলের অভাব। তাছাড়া সংক্রমণের ভয়ে বাইরের লোকজনকেও প্রবেশে অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না। তাই বেশিরভাগ বাড়িতে ছোটো করে কোনওমতে সেড়ে নেওয়া হচ্ছে পুজো। নিয়মরক্ষার তাগিদে।
তেমনই অবস্থা দুর্গাপুর রাজবাড়িতেও। উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের দুর্গাপুর। সেখানকার ভূপালপুর জমিদার বাড়িতে পুজো হচ্ছে প্রায় চারশো বছর ধরে। প্রাচীন এই পুজোয় ইতি টানেনি রায় চৌধুরি পরিবার। তবে মূর্তি আনানো হয়নি। পরিবর্তে ঘটেই আরাধনা হচ্ছে মায়ের। জানা গেল, মূর্তি আনানোর সময় অনেক লোকবল দরকার। নিরঞ্জনের সময়ও। সেক্ষেত্রে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই মূর্তি আনানো হয়নি। 
এমনকী বাড়িতে ঢাকিদেরও পরবেশ নিষিদ্ধ। তাই রাজবাড়ির দুর্গাদালান এবার প্রায় নিস্তব্ধ। নেই ঢাকের আওয়াজ। মানুষের কোলাহল। পুরোহিত মন্ত্রোচ্চারণ করে পুজো করছেন। মনমরা সদস্যরাও। স্থানীয় বাসিন্দা, অন্য বংশধর, আত্মীয়দের ঢল নামে প্রতি বছর। এবার তাও বন্ধ।
কথিত, মুঘল সম্রাট শেরশাহের আমল থেকেই এই বংশের দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়েছিল। পরবর্তীকালে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়চৌধুরি, ভূপাল চন্দ্র রায়চৌধুরি পরিবারের বংশধরের হাত ধরে এখানে দেবী পূজিত হতে থাকেন। আজও দুর্গাপুর রাজবাড়িতে পুজো করে আসছেন পরিবারের সদস্যরা।
তবে রীতিনীতি একটু বদলেছে। আগে মহালয়াতেই হত দেবীর বোধন। হত জোড়া মোষ ও পাঁঠা বলি। চলত যাত্রা, গানের আসর। এখন বলি বন্ধ। বোধন হয় ষষ্ঠীতেই। যাত্রাপালও অতীত। 

জনপ্রিয়

Back To Top