আজকালের প্রতিবেদন: করোনা পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করলেন জিডি হাসপাতাল ও ডায়াবিটিস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ডাঃ সুকুমার মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘ভারত এই নভেল কোরোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে লড়াই করছে এবং এই রোগের ব্যাপক সংক্রমণ রোধে অনেকটাই সফল হয়েছে। আমরা যত পরীক্ষা করব, ততই উপসর্গহীন কোভিড–১৯ আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাব। কিন্তু এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, আমাদের শান্ত ও সজাগ থাকা আবশ্যিক। যখন ভারতে ২,৩০১টি পজিটিভ কেসের তুলনায় এই রোগে প্রাণ হারানো রোগীর সংখ্যা মাত্র ৫৬ জন। যে কোনও  মৃত্যুই দুঃখদায়ক, তবে আমাদের অবশ্যই আগামী দিনগুলিতে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী দিনগুলিতে ভারতে আরও পরীক্ষা দরকার, কারণ ভারত স্টেজ–৩তে প্রবেশ করতে চলেছে। এই পর্যায়ে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি থাকে। এক্ষেত্রে একমাত্র প্রতিরোধ করা যাবে লকডাউন বা সামাজিক দূরত্ব এবং আইসিএমআর–এর নির্দেশিকাগুলি মেনে চললে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‌পশ্চিমবঙ্গে যে চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে, তার প্রাথমিক কাঠামোর মধ্যে একজন জেনারেল ফিজিশিয়ান, পালমোনলজিস্ট এবং এনেস্থেটিস্ট–সহ নার্সিংকর্মীরা রয়েছেন। সরকারের অনুমোদিত নির্দেশিকা মেনে চলা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং এই অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যঁারা প্রথম সারিতে রয়েছেন, তঁাদের প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করাটাও ভীষণ দরকার। সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসা করছেন এমন নার্স এবং চিকিৎসকদের ঠিকঠাক সুরক্ষা দেওয়া দরকার। যদি কোনও স্বাস্থ্যকর্মী রোগীদের সংস্পর্শে আসেন, তবে তঁার ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিন জরুরি।’ এই ভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ২,৩০১ জন হলেও মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সংশ্লিষ্ট সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের অন্য রাজ্যগুলি এই ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ রোধে সফল হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সুকুমার মুখার্জি।
বর্তমানে বিশ্বের সব দেশে এই ভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কারের জন্য গবেষণা চলছে। তাতে একটি ভারতীয় ড্রাগ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি, এইচআইভি সংক্রমণের জন্য ব্যবহৃত প্রোটিজ ইনহিবিটারগুলি সংমিশ্রণ থেরাপিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। আইসিএমআর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো সংস্থা কোভিড–১৯ নিয়ে মানুষকে অবহিত ও শিক্ষিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। সবাই প্রতিরোধ ও সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। মানুষকে অবশ্যই ধৈর্য ধরে এক হয়ে থাকতে হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top