আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য–রাজনীতি। বৃহস্পতিবারই কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মূর্তি শুদ্ধকরণ অভিযানে জোর ধাক্কা খেয়েছিল রাজ্য বিজেপির নেতা–কর্মীরা। প্রথমে বচসা এবং পরে পুলিসের তরফ থেকে আটকে দেওয়া দিলীপ ঘোষদের। বস্তুত, ঘটা করে মিছিল করে গেলেও শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির কাছেই যেতে পারেননি বিজেপি কর্মীরা। আর তাই শুক্রবার হাওড়ার মন্দিরতলায় আরও একটি শুদ্ধকরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন বিজেপি কর্মীরা। এদিন অবশ্য আর কোনও ঘটনা ঘটেনি। নবান্নের নিকটবর্তী মন্দিরতলায় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে গঙ্গা জল এবং দুধ ঢালেন বিজেপি কর্মীরা। দেওয়া হয় মালা এবং চন্দনের ফোঁটাও। পাশাপাশি কর্মসূচি সফল হওয়ায় রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিজেপি কর্মী থেকে সদস্যরা। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিজেপির মূর্তি শোধন কর্মসূচি উত্তপ্ত ছিল রাসবিহারী চত্বর। কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামলাতে রাসবিহারী মোড়, কেওড়াতলায় মোতায়েন ছিল প্রচুর সংখ্যায় পুলিস। ছিল জলকামানও। সকালে শুদ্ধকরণ অভিযানের জন্য বিজেপি মিছিল শুরু করলে রাসবিহারী মোড়েই তাদের আটকায় পুলিস। বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। এরপর দুপুরে লেক মল থেকে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে লকেট চ্যাটার্জি সহ বিজেপি নেতা, কর্মী, সমর্থকরা কলসিতে গঙ্গাজল, দুধের প্যাকেট নিয়ে মিছিল করে এগোতে গেলে ফের রাসবিহারী মোড়ে মিছিল আটকায় পুলিস। বাধা পেয়ে রাসবিহারী মোড়েই শাঁখ বাজাতে থাকেন লকেট চ্যাটার্জি। অন্য মহিলা কর্মীরা উলুধ্বনি দেন। কালীঘাটে বিজেপি কর্মীসমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করলে সেখানে তাদের বাধা দেন স্থানীয় বাসিন্দারাই। গণ্ডগোলের জেরে কালীঘাট, রাসবিহারী অঞ্চলের অধিকাংশ দোকানপাটই বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেওড়াতলাতেও সিআর দাস পার্কে জোর করে ঢুকতে যায় কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থক। তবে স্থানীয় কাউন্সিলর তথা কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় সকালেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ওই পার্কটি পুরসভার দায়িত্বাধীন। মূর্তি ঠিক করার কাজও করবে পুরসভাই। সেখানে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। আর তাই সকালেই শ্যামাপ্রসাদের ওই মূর্তিটি সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে পার্কের গেটে দুটি তালা লাগিয়ে দেন পুরসভার কর্মীরা।    

জনপ্রিয়

Back To Top