North Bengal: দোতলা বাসে চেপে মদনমোহন মন্দির থেকে সাগরদীঘি!‌ পুজোর আগেই আসছে সুযোগ

বিভাস ভট্টাচার্য:‌ প্রতীক্ষা শেষ। উত্তরবঙ্গের রাস্তায় এবার নামতে চলেছে দোতলা বাস। আগামী ৪ অক্টোবর থেকে। আপাতত চালু হচ্ছে 'জয় রাইড' দিয়ে। এরপর ধাপে ধাপে সাধারণ যাত্রী পরিবহনের কাজেও ব্যবহার হবে এই দোতলা বাস। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং পুজোতে আরও বেশি পর্যটক  টানতে চালু হচ্ছে 'সবুজের পথে হাতছানি'। যেখানে উত্তরবঙ্গের জঙ্গল সাফারি'র সঙ্গে ঘুরিয়ে দেখানো হবে অন্যান্য পর্যটন স্থান। 
এবিষয়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় Aajkaal.in–কে বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুপ্রেরণাতেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। জয় রাইডটা আমরা একেবারেই 'নো প্রফিট, নো‌ লস' ভিত্তিতে চালু করছি। যেখানে বিভিন্ন স্কুল বা পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্তরাও এই সুযোগ পাবেন। মূলত কোচবিহারের যে ঐতিহ্যমন্ডিত জায়গাগুলি আছে, যেমন মদনমোহন মন্দির, কোচবিহার রাজবাড়ি, সাগরদীঘি, সেই জায়গার ঐতিহ্য নতুন প্রজন্ম এবং বাইরের পৃথিবীর কাছে তুলে ধরাই এর উদ্দেশ্য। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে দোতলা বাস কিন্তু নিজেই একটা ঐতিহ্য।' 
জয় রাইড-এর জন্য দোতলা বাসের ভাড়া এখনও চূড়ান্ত না হলেও চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আড়াই হাজার টাকার মধ্যে থাকতে পারে। তিনি বলেন, 'আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এবিষয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেদিন বাসের ট্রায়াল রানও হবে এবং সব ঠিক থাকলে আগামী ৪ অক্টোবর আমরা এটা চালু করে দেব। একসঙ্গে দু'মাসের বুকিং নিয়ে নামা হচ্ছে।' 
একদিকে যেমন ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে দোতলা বাস রাস্তায় নামানো হচ্ছে, এর পাশাপাশি নিগমের আয় বাড়াতে নিগমের উদ্যোগে উত্তরবঙ্গে চালু হতে চলেছে 'সবুজের পথে হাতছানি'। পর্যটকদের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া ছাড়াও ঘুরিয়ে দেখানো হবে অন্যান্য দ্রষ্টব্য জায়গাগুলি। থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা নিগমই করবে। যার জন্য জনপ্রতি প্যাকেজের বন্দোবস্ত থাকছে। তবে জঙ্গল সাফারির খরচ আলাদা‌। 
পার্থপ্রতিম বলেন, 'আগামী ৬ অক্টোবর থেকে এটা চালু হবে। সচরাচর যে জায়গাগুলিতে পর্যটকরা যান, সেগুলো বাইরে যেখানে সাধারণত পর্যটকদের পা পড়ে না, সেখানে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন পর্যটনের প্রসার হবে তেমনি এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতিও হবে। খেয়াল রাখতে হবে আমাদের সরকারের লক্ষ্য কিন্তু সকলকে একসঙ্গে নিয়ে চলা। জঙ্গল সাফারির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত যোগাযোগে আমরা সাহায্য করব। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের পর্যটন সংস্থার সঙ্গে আমাদের কথা এগোচ্ছে। অবশ্যই প্রতিটি ক্ষেত্রেই মেনে চলা হবে করোনা বিধি।' অনলাইন বুকিং করা যাবে নিগমের নিজস্ব সাইটে। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও বুকিং করা যাবে বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।