আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার জনতা কার্ফুর দিনে প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ থালা, বাসন, কাঁসর ঘন্টা বাজালেন ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী সহ অত্যাবশ্যক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অভিনন্দন জানাতে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই সংকট কালে তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতি জানাতে। কিন্তু তারপরেই কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে যে খবর আসছে, তা কিন্তু মোটেই এই শহরের মানবিক বা সহিষ্ণু মুখ নয়।
বিভিন্ন হাসপাতালে ও নার্সিংহোমে কর্মরত ডাক্তার, নার্সদের মধ্যে যাঁরা জেলার বাসিন্দা বা এসেছেন ভিন রাজ্য থেকে, তাঁরা কলকাতায় কেউ বাড়ি ভাড়া করে থাকেন, কেউ বা থাকেন পেয়িংগেস্ট হিসেবে। বাড়িওয়ালারা তাঁদের অবিলম্বে বাড়ি ছাড়তে বলছেন। এমন নয় তাঁরা সকলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা বা সেবার কাজে যুক্ত। কিন্তু ভয়ের এই আবহে এঁরা সকলেই এখন ব্রাত্য, কারণ ওঁরা নাকি ভাইরাস ছড়াতে পারেন। এমন ঘটনার খবর আসছে মুকুন্দপুর, অজয় নগর, কাটজুনগর, বাঘাযতীন, গড়িয়া থেকে শুরু করে সল্টলেক এমনকী কামারহাটি থেকে। 
এ নিয়ে কথা বলেছিলাম বিশিষ্ট মনোবিদ অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে । উনি বলছেন, 'এটি নিন্দনীয় একটি ঘটনা, বিরাট বিপদ ডেকে আনছি নিজেদের । বিপদের দিনের যোদ্ধাদের পাশে না থাকাটা ঠিক নয় । আমাদের আসল শত্রু করোনা । তার সঙ্গে শত্রুতা করতে গিয়ে ডাক্তার, নার্সদের সঙ্গে কেন! মানুষ অস্তিত্বের সংকট অনুভব করলে হিংস্র এবং আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। আমাদের সেই বিষয়ে সংযমী এবং সতর্ক হতে হবে। জরুরি পরিষেবা যাঁরা দিচ্ছেন তাঁদের পাশে থাকতে হবে।'
বাড়ি ছাড়তে যাঁদের বলা হয়েছে, ভয়ে তাঁরা মুখ খুলতে চাইছেন না। নাম ধাম বলছেন না। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন না বাড়িয়ালারাও। এঁদের অনেকে আবার বলছেন, পাড়ার লোকের চাপাচাপিতে তাঁরা ভাড়াটেদের তাড়িয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে খুবই অসহায় বোধ করছেন স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তাররা।

জনপ্রিয়

Back To Top