অভিজিৎ বসাক: মোদিবাবু গালাগাল দেওয়ার আগে হোমওয়ার্কটা করে আসুন। ১০০ দিনের কাজ, ই–গর্ভন্যান্স, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামোয় দেশের মধ্যে বাংলা এক নম্বর। আর আপনি দিল্লি থেকে এসে গালাগালি দিয়ে বলছেন বাংলায় কিছু হয়নি। তোতাপাখির ভোঁতাবুলি। বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে এক সভায় এভাবেই উন্নয়ন–অস্ত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা ফিরিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর খোঁচা, আপনি আগে গুজরাট দেখুন। বাংলাকে দেখার কোনও দরকার নেই। শুধু রাজারহাট দেখে যান। তারপর বলবেন বাংলায় কী হয়েছে। বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষদস্তিদারের সমর্থনে আয়োজিত সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হোমওয়ার্ক করে ‌শিশুদের স্কুলে যেতে হয়। না হলে দিদিমণিরা বকেন। এই যে আপনি হোমওয়ার্ক না করে এসে মিথ্যে কথা বলছেন, পাবলিক যদি আপনাকে বকে কী করবেন?‌ পাবলিক তো বলতেই পারে আপনি কেন মিথ্যে কথা বলছেন?‌ তোতাপাখির মিথ্যে বুলি।’‌ এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন সুদর্শন ঘোষদস্তিদার, তাপস রায়, পূর্ণেন্দু বসু, সব্যসাচী দত্ত, তাপস চ্যাটার্জি, দোলা সেন, কাকলি ঘোষদস্তিদার, নির্মল ঘোষ, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, সৌরভ চক্রবর্তী, জ্যোতিমর্য়ী শিকদার প্রমুখ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌দেশে ৩ কোটি চাকরি হারিয়েছে, অন্যদিকে, বাংলায় ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে। দেখে শেখো। আমরাই কাজটা করি। মিথ্যে বলা কর্ম, দাঙ্গা করা ধর্ম আপনার।’‌ তিনি বলেন, ‘‌আপনি বলছেন বাংলায় নাকি দুর্গাপুজো হয় না। এখানে দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো হয়। ইদ, বড়দিন, ছটপুজো হয়।‌ এখানে একটা জিনিসই হয়, মোদি হয় না। বিজেপি হয় না। জানেন কোন ধর্মে কি আছে?‌ বাংলা দুর্গাপুজো করতে দেয় না বলার আগে যান হোমওয়ার্ক করে আসুন।’‌
দলের নেতা–কর্মীদের মমতার পরামর্শ, মানুষ দায়িত্ব দিয়েছেন। ‌আমরা যেন কাজে ফাঁকি না দিই। একটা মানুষের কাজ করতে পারলে সন্তুষ্ট হই। না করতে পারলে দুঃখ হয়। জেলায়–জেলায় ঘুরি। কোন ব্লকে কী কাজ বাকি আছে, তা দেখি। তদারকি করি। মমতা বলেন, ‘‌নোট–বাতিলের ফলে কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, দোকান, ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, অনেকে চাকরি হারাল। মোদিবাবু আপনার তো পোয়াবারো। পার্টিকে ঢেলে সাজিয়ে নিলেন। আগে খেতে পেত না যে পার্টি, সেই পার্টি কোটি কোটি টাকার মালিক।’‌ মোদির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, আপনারা একটা দিন ভোট দিয়ে তাঁকে বাতিল করে দেবেন না কেন?‌ ভোট দিন আর বলুন এই নিন আপনাকেও আমরা বাতিল করলাম।‌‌

নিউ টাউনের সভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জ্যোতির্ময়ী শিকদার। ছবি: আজকাল

জ্যোতির্ময়ী তৃণমূলে
আজকালের প্রতিবেদন: বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ, প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ জ্যোতির্ময়ী শিকদার তৃণমূলে যোগ দিলেন। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উপস্থিতিতে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। এদিন বারাসতের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষদস্তিদারের সমর্থনে নিউ টাউনে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রধান বক্তা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মঞ্চেই জ্যোতির্ময়ী তৃণমূলে যোগ দেন। তঁার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌জ্যোতির্ময়ী আমাদের গর্ব’‌। এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট জ্যোতির্ময়ীর জন্ম নদিয়ায়। তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কৃষ্ণনগরের সাংসদ ছিলেন।

জনপ্রিয়

Back To Top