চলতি বছরেই বোলপুর, সিউড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ডিএনবি পড়ানো শুরু হতে চলেছে

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বোলপুর বা সিউড়িতে মেডিকেল কলেজ গড়ে ওঠার স্বপ্ন বা প্রত্যাশা কোনওটাই এখনও পূরণ হয়নি। সেই খামতি কিছুটা হলেও যেন মিটতে চলেছে এবার। বোলপুর ও সিউড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের মাস্টার্স ডিগ্রির সমতুল্য পাঠ ডিএনবি পড়ানো শুরু হতে চলেছে এই বছর থেকেই। 

জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুটি হাসপাতালেই চারটি করে বিষয় নিয়ে এ বছর থেকেই পঠনপাঠন শুরু হবে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ হিমাদ্রি আড়ি জানান, 'ইতিমধ্যেই দিল্লির এইমস থেকে প্রতিনিধিরা দু'টি হাসপাতালই ঘুরে দেখে গেছেন। আমরা আশাবাদী এই শিক্ষাবর্ষেই কোর্স শুরুর প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেয়ে যাব।' 

বীরভূম জেলার সদরে শহর সিউড়ি বা বোলপুরে মেডিকেল কলেজ না হওয়ার একটা আফশোস ছিল দীর্ঘদিনের। বছর দশেক আগে প্রসূতি বিভাগের মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য ডিএনবি পড়ানোর অনুমতি দিয়ে সিউড়িবাসীর সেই ক্ষোভে কিছুটা প্রলেপ দিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। এবার একসঙ্গে চারটি বিষয়ে ডিএনবি পাঠের ছাড়পত্র পেতে চলেছে বোলপুর ও সিউড়ি। চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, অ্যানেস্থাটাইজ চিকিৎসক ও নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পাঠ দেওয়া হবে সিউড়ি ও বোলপুর হাসপাতালে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা ডিপ্লোমা করেছেন তাঁদের জন্য দু'বছর ও সদ্য এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসকদের জন্য তিন বছরের এই কোর্স শুরু হবে। 

সিউড়ি হাসপাতালের সুপার ডাঃ শোভন দে জানান, 'এই ডিএনবি কোর্স চালু করায় হাসপাতালের গৌরব যেমন বাড়ল, সেইসঙ্গে সদ্য আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে পড়ে আসা চিকিৎসকের সংখ্যা হাসপাতালে একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল।'

এর ফলে হাসপাতালে চিকিৎসকের যে ঘাটতি রয়েছে তা প্রতি বছর বিশেষজ্ঞ হতে আসা ওই চিকিৎসকেরা তা পূরণ করে দেবেন। যার ফলে হাসপাতালের রোগীরা আরও উন্নত মানের চিকিৎসা পাবেন বলেই মনে করছেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে হাসপাতালের পরিকাঠামো ঘুরে দেখার জন্য এইমসের প্রতিনিধিরা সিউড়ি, বোলপুর ঘুরে দেখেন। 

এক স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান যে, হাসপাতাল দুটি ঘুরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তাই ছাড়পত্র পেতে দেরি হবে না বলেই আশা করছেন তাঁরা।

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ হিমাদ্রি আড়ি জানান, 'আমরা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ইতিমধ্যেই গড়ে তুলেছি। চিকিৎসকদের উন্নততর পাঠদান ও চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত। ছাড়পত্র পেলেই আমরা পাঠদান শুরু করে দেব।'