বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর, ২১ অক্টোবর- গত কয়েক বছর ধরে বিক্রি কমছে মাটির তৈরি দেওয়ালি পুতুলের। যারা এসব নিয়ে মেতে উঠত, সেই কচিকঁাচার দল এখন ব্যস্ত মোবাইলে গেম খেলতে বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিয়ে মেতে থাকতে। তারা এখন আর মাটির দেওয়ালি পুতুল নিয়ে খেলে না। স্বভাবতই তার প্রভাব পড়েছে পুতুল বিক্রির ওপর। বিক্রেতারাও জানালেন, আগের মতো আর দেওয়ালি পুতুলের বিক্রি নেই।
মেদিনীপুরের মির্জাবাজার এলাকায় ১২৬টি কুমোর পরিবারের বাস। বংশ পরম্পরায় তঁারা মাটির বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে আসছেন। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কঁাসাই নদীর পাড় থেকে পলি মাটি মিললেও এখন সেই মাটিও সহজে পাওয়া যায় না। নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বাড়িঘর। তঁারা আর মাটি তুলতে দেন না। কৃষকের জমি থেকে মাটি কিনে আনতে হয়। ফি বছর বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকেই কুমোরপাড়ায় বাড়ি বাড়ি মাটির প্রদীপ, তুবড়ির খোল, ডিবরি (‌কেরোসিন তেলে পলতে দিয়ে জ্বালানো হয়)‌ তৈরি হয়। আর তৈরি হয় বিভিন্ন সাইজের মাটির দেওয়ালি পুতুল। কোনওটির দুটি হাত, কোনওটির চারটি। কোনওটির হাতে ধরা প্রদীপ। ৪টি থেকে ১৪টি পর্যন্ত প্রদীপ থাকে। কুমোরপাড়ায় ঢুকলেই চোখে পড়বে থরে থরে সাজানো মাটির প্রদীপ, দেওয়ালি পুতুল। কিন্তু সেভাবে ক্রেতা নেই। 
৫০ বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত মৃৎশিল্পী বিশ্বরূপ পাল জানান, যতই প্রচার চলুক, তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। মানুষ এখন প্লাস্টিকের পুতুল, বিভিন্ন রঙিন এলইডি আলো ব্যবহার করছেন। কচিকঁাচারা মোবাইলে গেম খেলতে বেশি আগ্রহী। আক্ষেপের সুরে তিনি জানান, একদিন হারিয়ে যাবে এই শিল্প।

চলছে পুতুল তৈরি। মেদিনীপুরের কুমোরপাড়ায়। ছবি: স্বরূপ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top