যজ্ঞেশ্বর জানা,কঁাথি: বাংলায় সংবাদ মাধ্যম স্বতন্ত্র ও স্বাধীন। এই মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার অমিত শাহরাই করেন, তৃণমূল নয়। এই মন্তব্য করেছেন তমলুকের তৃণমূল সাংসদ তথা ওই কেন্দ্রে এবারের প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী। এর আগে বাংলার সংবাদ মাধ্যমকে শাসক দল নিয়ন্ত্রণ করছে বলে কঁাথিতে অভিযোগ করেন বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপবাবুকে তীব্র কটাক্ষ করে দিব্যেন্দু জানান, তিনি ঠিক বলছেন না। কোথায় কী বলতে হয়, তা তঁার জানা নেই। 
বাংলার সব বুথকে স্পর্শকাতর ঘোষণা করার পাশাপাশি বিজেপি–র তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে বাংলায় সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিজেপি–র তরফে বাংলায় মিডিয়া অবজারভার নিয়োগের দাবিও জানানো হয়েছে। গোটা ঘটনার নিন্দা করে বাংলাকে অপমান করার অভিযোগ বুধবারই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগকে অবান্তর বলে দাবি করেছেন বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার কঁাথির চাউলখোলাতে দলীয় বৈঠকে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দিলীপ বলেন, ‘‌এখানে বাংলা ও বাঙালি নিয়ে প্রশ্ন আসছে কী করে? গণতন্ত্রের প্রশ্ন এটা। গণতান্ত্রিক দেশের এই রাজ্যে বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। তাই আমরা দাবি জানিয়েছি, বুথে বুথে বাহিনী মোতায়েন করে ভোট করানোর।’‌ বিজেপি–র পাশে বাংলার কোনও সংবাদ মাধ্যম নেই বলেও এদিন আক্ষেপ প্রকাশ করেন বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি। বলেন, ‘‌সংবাদ মাধ্যম দিদির সঙ্গে আছে। দিদি কান ধরে যেভাবে মিডিয়াকে ওঠবোস করাচ্ছেন, সেটা ঠিক নয়। আমরা সে কথাও বলেছি।’‌
দিলীপের এমন মন্তব্যকে ঘিরেই এদিন রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে যায় কঁাথিতে। দিলীপবাবুকে কটাক্ষ করে তমলুকের তৃণমূল সাংসদ এবং বর্তমানে ওই আসনের তৃণমূল প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‌কী কথা, কখন, কোথায় বলতে হবে সেটাই জানা নেই দিলীপবাবুর। এই রাজ্যে সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। এখানে কোনও সংবাদ মাধ্যমের ওপর কেউ প্রভাব বিস্তার করেনি। মিডিয়া স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ একমাত্র বিজেপি–র অমিত শাহরা করতে পারেন। যেভাবে জাতীয় চ্যানেলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন।’‌ আর বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর দাবিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‌বিজেপি–র এমন অমূলক কথার উত্তর মানুষ ভোটেই দেবেন।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top