রাজ্য ভোট পরবর্তী হিংসা দেখে হতাশ, তাই এমন মন্তব্য সৌমিত্র খাঁ, জন বার্লাদের!‌ দাবি দিলীপ ঘোষের

সুরজিৎ ঘোষ হাজরা, বোলপুর, ২০ জুন:‌ রাজ্যে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা আসা ও ভোট ফলাফল পরবর্তী সময়ের সন্ত্রাসের হতাশা থেকেই বিজেপি নেতারা পৃথক রাজ্যের দাবি তুলছেন বলে মত প্রকাশ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সোমবার বিকালে সিউড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে সারা রাজ্য জুড়ে যেভাবে হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যেভাবে বিজেপি নেতা কর্মীদের সন্ত্রাসের শিকার হতে হচ্ছে, তাতেই হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেক বিজেপি নেতৃত্বে। সেই থেকেই এমন মন্তব্য করেছেন বলেই মত প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘জন বার্লা বা সৌমিত্র খাঁ যা বলেছেন তা তাদের ব্যক্তিগত মত, কিন্তু আমি মনে করি তাদের হতাশা থেকেই এই মত বেরিয়ে এসেছে।’
 এদিন পৃথক রাজ্যের দাবি প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‌ভারতীয় জনতা পার্টির নীতি খুব পরিস্কার। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে একটা রাজ্য হিসেবেই দেখি। সেই রাজ্যের পরিবর্তন এবং উন্নয়নের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি কাজ করছে। এনারা যেগুলো বলেছেন সেগুলো হতাশ হয়ে গিয়ে বলছেন। মানুষের উপর যেভাবে অত্যাচার চলছে, অন্যায় চলছে, প্রশাসন নেই, সরকার আছে বলে মনে হচ্ছে না। তাই অনেকে হতাশ হয়ে এই ধরনের মন্তব্য করছেন। পার্টির সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই।’‌ 
সোমবার বিকালে বীরভূম জেলার নির্বাচন পরবর্তী অবস্থা নিয়ে এক পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা, দুবরাজপুর বিধানসভার বিধায়ক অনুপ সাহা, প্রাক্তন জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় ও শ্যামাপদ মণ্ডল সহ দলের জেলা কমিটির সকল সদস্য। পরে সাংবাদিকদের সামনে মুকুল প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘‌যে লোকটা তৃণমূল দলটাকে শেষ করতে পারেনি, সে আবার বিজেপির মত সর্বভারতীয় দল কে কি শেষ করবে! আমরা রাহুমুক্ত হয়েছি এতেই আমরা খুশি।’‌ 
অনান্যদের দল ছাড়া প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, ‘‌এতদিন যাঁরা ছিলেন তাদেরকেই জেলার দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছিল। পার্টি যথেষ্ট গুরুত্ব ও সম্মান দিয়েছে। যাঁদের পোষায়নি, তাঁরা দল ছেড়ে চলে গেছে।’‌ 
এদিন হাইকোর্টে নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসের মামলার রায় প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘‌হাইকোর্টে রাজ্য ধাক্কা খেয়েছে। প্রতিবারই গলা ধাক্কা খায়। জীবনে ওরা একটা কেসে জিতেছে, সিঙ্গুর কেস। সেও কি করে সেটিং করে জিতেছে আমরা জানি। সুতরাং যে মিথ্যা কথা প্রচার করা হচ্ছিল যে কিছু হয়নি সেটা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত। আমরা ১১ হাজারেরও বেশি ঘটনা সংগ্রহ করেছি। আরও অনেক লোক আছেন বাইরে। তাঁরা ঢুকতে পারছেন না। লুকিয়ে আছেন। সেই সমস্ত ঘটনা হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্টে এবং বিভিন্ন কমিশনে এসসি–এসটি, মাইনরিটি, শিশু ও মহিলা ও হিউম্যান রাইটস কমিশনে পাঠিয়েছি। এইসব ঘটনা পরম্পরায় হাইকোর্ট রায় দিয়েছে সমস্ত লোকেদের বাড়ি ফিরিয়ে দিতে হবে।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌আদালতের কাছে আমরা তিন হাজার ২৪৩ টি ঘটনা দিয়েছি, গত ৩১ মে থেকে ১০ জুনের মধ্যে। তাই প্রমাণ হয়ে গেছে এখনও ব্যাপক সন্ত্রাস চলছে। বহু মানুষ বাইরে। এটা সরকার চেপে যেতে চেয়েছিল, হাইকোর্টে গিয়ে মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল। থাপ্পর খেয়েছে। কমপক্ষে মানুষ যাকে ভোট দিয়ে দিয়েছে সেই মানুষের সুরক্ষার দায়িত্ব নিক।’‌ 
এদিন রাজ্য পর্যাপ্ত কোভিড টিকা দিতে না পারায় সমালোচনার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তোলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, ‘‌পশ্চিমবাংলায়, কমপক্ষে ১০ লক্ষ টিকা আছে। আপনারা জানেন প্রতি ২–৩ দিন অন্তর এখানে দু লক্ষ তিন লক্ষ করে টিকা আসছে। ৬০–৭০ হাজারের বেশি টিকা এরা রোজ দিতে পারছে না। সারাদেশে ২৮–২৯ কোটি টিকা ওরা দিয়ে দিল। কেন পশ্চিমবঙ্গ পারছে না? কত টিকা এসেছে, কত দেওয়া হয়েছে, কত পড়ে আছে–তার একটা শ্বেতপত্র রাজ্য সরকার প্রকাশ করুক। মানুষের জানার অধিকার আছে, কেন তাঁরা টিকা পাচ্ছেন না। মোদিজি পাঠিয়েছেন ফ্রি টিকা, সবার জন্য। মমতা ব্যানার্জিও ভোটের আগে বলেছিলেন ফ্রী টিকা দেওয়া হবে। কেন দিচ্ছেন না?’‌