আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ফের স্বমেজাজে দিলীপ ঘোষ। গতকাল ব্রিগেডে বাম–কংগ্রেসের ঐক্যের ব্রিগেড নিয়ে রীতিমতো আক্রমণের সুরে এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘‌বাম–কংগ্রেস ও আইএসএফ যা শুরু করেছে, তাতে বাংলাকে বৃহত্তর বাংলাদেশ এরা বানিয়েই ছাড়বে। তৃণমূল আগেই শুরু করেছিল। এবার যোগ দিয়েছে জোটও। সবচেয়ে বড় কথা আইএসএফ সেকুলার নয়।’‌ ব্রিগেডের ভিড়কে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, ‘‌২০১৯ সালেও তো ব্রিগেড করেছিল। তারপর লোকসভা ভোটের পরিণতি তো সবাই জানেন।’‌ দিলীপের কথার জবাবে তৃণমূলের তরফে সুব্রত মুখার্জি বলেছেন, ‘‌বিজেপির পাশাপাশি এখন জাতপাতের রাজনীতি করছে বাম ও কংগ্রেস।’‌
দিলীপ আক্রমণ করলেও জোট নিয়ে রফা এখনও হয়নি। রবিবার মঞ্চে যখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ভাষণ দিচ্ছেন, তখনই প্রবেশ করেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট প্রধান আব্বাস সিদ্দিকি। রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায় আব্বাসকে নিয়ে। এরপর বক্তা সিদ্দিকি যখন নাম না করে অধীর চৌধুরীকে আক্রমণ করছেন, তখন মঞ্চে চুপচাপ বসে সভাপতি। সিদ্দিকি কোনও ভিক্ষা নয়, সরাসরি ‘‌ভাগিদারি’‌ ও ‘‌হক’‌ দাবি করেছেন কংগ্রেসের কাছে। বামেদের সঙ্গে আসনরফা সম্পূর্ণ হলেও কংগ্রেসের একজনের জন্য জোটের রফা যে সম্ভব হচ্ছে না, তা দাবি করেছেন আব্বাস। এরপরই বিজেপি ও তৃণমূলকে আক্রমণ করে আব্বাস বলেন, ‘‌আগামী নির্বাচনে মাতৃভূমিকে রক্ত দিয়ে হলেও স্বাধীন করব। বিজেপি আর বিজেপির বি টিম মমতাকে আমরা বাংলা থেকে উৎখাত করে ছাড়ব।’‌ 
মুর্শিদাবাদে বেশ কিছু আসন চেয়েছেন সিদ্দিকি। কিন্তু অধীর তা ছাড়তে নারাজ। কারণ হিসেবে কংগ্রেস বলছে, এই আসনগুলিতে কংগ্রেসের জয়ী বিধায়করা আছেন। এখানে ফলও ভাল হবে। আর তা নিয়েই জোটের ভাগ্য ঝুলছে। 
বিকল্প রাস্তা খোলা রেখেছেন আব্বাস। যদি জোট না হয়, সেক্ষেত্রে তিনি একাই লড়াই করতে পারেন। সঙ্গে নিতে পারেন ওয়াইসির দল ছাড়াও বেশ কিছু ছোট দলকে। 
এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন দিলীপ। তাঁর বৃহত্তর বাংলাদেশ তত্ত্বের জবাবে বাম–কংগ্রেস কী বলে, সেদিকেই আপাতত নজর রাজনৈতিক মহলের। 

জনপ্রিয়

Back To Top