বিচারপতির সঙ্গে ছবি তোলার ব্যাখ্যা দিলেন দিলীপ, হাইকোর্টে যাওয়া নিয়ে মমতাকে করলেন কটাক্ষ  

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির পর সংগঠন মজবুত করতে উঠেপড়ে লেগেছে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব। এবার মুর্শিদাবাদের বিজেপি সংগঠনকে সরেজমিনে দেখতে শুক্রবার বহরমপুরে বিজেপির সাংগঠনিক আলোচনায় উপস্থিত হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক তথা জেলা বিজেপি সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ ও বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র সহ অন্যান্য বিজেপি নেতা কর্মীরা। 
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। নন্দীগ্রাম মামলা বিচারপতি কৌশিক চন্দের সিঙ্গল বেঞ্চে ওঠায় আইনজীবীদের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‌কৌশিক চন্দ আমাদের দলের কেউ নন । কয়েক বছর আগে যখন উনি আইনজীবী ছিলেন, তখন হাইকোর্টের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে ফটো তোলা হয়েছিল। এখন তিনি বিচারপতি। যোগ্যতা দিয়েই তাঁর নিরপেক্ষতা বিচার হবে। কে কখন কার সঙ্গে ফটো তুলেছিল, তার ওপর তাঁর নিরপেক্ষতা নির্ভর করে না।’‌ এরপরই দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‌এমন অনেক বিচারপতি আছেন যাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তা বলে কি তাঁদের মানুষ বিশ্বাস করবে না! সেইসঙ্গে দিলীপ ঘোষ আরও জানান, মুকুল রায় রাজ্যসভার সদস্যপদ ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। এখন যখন তিনি তৃণমূলে যোগদান করলেন, তখন তাঁর বিধায়ক পদ ছাড়া উচিত ছিল। তিনি এখনও পর্যন্ত পদত্যাগ করেননি। তাই আমরা স্পিকারকে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছি। নৈতিকতা থাকলে পদত্যাগ করা উচিত তাঁর। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়কে নিয়ে দলের অন্দরে ওঠা বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে কোনও অন্তর্কলহ নেই। তৃণমূলের কর্মীরা এই ধরনের কাজ করেছেন। কারণ এই ধরনের কাজ বিজেপির সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না।’‌ দিলীপের দাবি কোনও বিজেপি কর্মী দল ছাড়ছেন না। যাঁরা বাইরে থেকে স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন তাঁরাই স্বার্থ চরিতার্থ করতে না পারায় অন্য দলে গিয়ে যোগদান করছেন। 
এদিন আবার মমত প্রসঙ্গে কৃষ্ণনগরের সভা থেকে দিলীপ বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী হারটা মেনে নিতে পারছেন না। তাই মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই আদালতে যাচ্ছেন।’‌ দিলীপ ঘোষের কথায়, তৃণমূলের স্লোগান ছিল বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়। অথচ মেদিনীপুর তাঁর নিজের মেয়েকে চায় না, সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে।