যজ্ঞেশ্বর জানা, দিঘা, ১৬ সেপ্টেম্বর- দিঘার সঙ্গে ঘোড়সওয়ারির সম্পর্ক বহু পুরনো। ফুল, জরি ও কাপড় দিয়ে সাজানো ঘোড়া দিঘা সমুদ্রসৈকতের খুবই চেনা দৃশ্য। অনেক পর্যটকই সৈকতে বেড়াতে গিয়ে  ঘোড়ার পিঠে চড়েন। ঘোড়ার পিঠে চেপে সৈকতে টগবগিয়ে ছুটে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। কিন্তু মাঝে মাঝে ঘোড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছিল। তাছাড়া সমুদ্রসৈকত নোংরাও হত। যে জন্য পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সৈকতের পরিচ্ছন্নতার কথা ভেবে দিঘার সৈকতে এবং সৈকত সরণির রাস্তার ওপর ঘোড়সওয়ারি নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।
ছোটদের বিনোদনের জন্য রিমোট গাড়ি চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। 
পুজোর আগে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে বেশ বিপাকে পড়েছিলেন এই দুই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। প্রশাসনের কাছে বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানিয়েছিলেন তঁারা। গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসনও। দিঘায় ঘোড়সওয়ারি পার্ক গড়ার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে দিঘা–শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ। বিষয়টি আপাতত প্রাথমিক ভাবনার জায়গায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্ষদ প্রশাসক সুজন দত্ত। দিঘার সঙ্গে ঘোড়সওয়ারির পুরনো সম্পর্কের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘‌পর্যটন বিনোদনের অন্যতম ঘোড়সওয়ারি। কিন্তু সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিষ্কার–‌পরিচ্ছন্নতার কথা ভেবে ঘোড়সওয়ারি এবং রিমোট গাড়ি চলাচলে মানা করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে ঘোড়সওয়ারি থেকে বঞ্চিত না হন বা এই পেশার কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন যাতে অসুবিধার মধ্যে না পড়েন, সে জন্য ঘোড়সওয়ারি পার্কের কথা ভাবা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে উন্নয়ন পর্ষদের পরবর্তী বৈঠকে।’‌ 
দিঘায় ঘোড়সওয়ারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে বেশ হতাশ হয়েছিলেন পর্যটকরা। তাছাড়া কাজ হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন এ পেশার সঙ্গে যুক্ত ১৭–১৮টি পরিবারের মানুষজন। ঘোড়াসওয়ারি পার্কের খবরে খুশি তঁারা। পার্ক তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সৈকতে ঘোড়াসওয়ারির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন প্রশাসনের কাছে জানিয়েছেন তাঁরা। সৈকতে ঘোড়াসওয়ারি এবং রিমোট গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি ছাড়াও ৭ দিনের মধ্যে নতুন করে সৈকতের ফুটপাথ দখল নেওয়া হকারদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের তরফে। এই বিষয়টি নিয়ে বিবেচনার দাবি উঠেছিল। কিন্তু এই বিষয়ে ভীষণ কঠোর জেলা প্রশাসন। সৈকতের রাস্তা, ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করা যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীও। পর্ষদ সদস্য তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস বলেন, ‘‌নতুন করে যঁারা সৈকতের যেখানে–‌সেখানে জায়গা দখল নিয়েছেন তাঁদের সরে যেতে বলা হয়েছে। ওদের দায়িত্ব প্রশাসন নেবে না। সৌন্দর্যায়নের জন্য সৈকতকে ঝুপড়িমুক্ত করে হকারদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। এরপর যাঁরা সৈকত দখল নিয়েছেন তাঁদের সরে যেতে হবে।’‌ দিঘায় এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার হকার্স পুনর্বাসন স্টল দেওয়া হয়েছে। যাঁরা পাননি তাঁদের কুপন সংগ্ৰহ করছে উন্নয়ন পর্ষদ। তারপরও দেখা যাচ্ছে সৈকতের ফুটপাথ–রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছে একাংশ। তাদের মূলত ৭ দিনের মধ্যে সৈকত ছেড়ে উঠে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

জনপ্রিয়

Back To Top