যজ্ঞেশ্বর জানা,বাজকুল:  বিরোধী নেত্রী থাকার সময়েই তিনি বারবার প্রশ্ন তুলতেন, দিঘা কেন গোয়া হবে না? ক্ষমতাকাল ৭ বছরে মমতার মমতায় তিলে তিলে সেজে দিঘা আজ অপরূপা। মমতা বার্তা দিলেন, আরও সাজবে দিঘা। দিঘা একদিন গোয়াকেও ছাড়িয়ে যাবে। বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের বাজকুলে সরকারি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘‌দিঘা একদিন গোয়াকে ছাড়িয়ে যাবে। এখানে সাত কিমি লম্বা মেরিন ড্রাইভ তৈরি হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, বিশ্ব বাংলা পার্ক হয়েছে। নতুন রাস্তা ও ব্রিজ হচ্ছে। আর দুটি ব্রিজ হয়ে গেলে মুম্বইয়ের মতো মেরিন ড্রাইভ তৈরি হয়ে যাবে। যা উপভোগ করতে পর্যটকে ভরে যাবে রূপসী দিঘা। যারাই এখন দিঘায় আসছে, তারা বলছে, কী ছিল, কী হয়ে গিয়েছে!‌ নিজেরা গেলেও দেখতে পাবেন কী পরিবর্তন হয়েছে!‌’‌
এখন দিঘায় বছরভর রয়েছে পর্যটকের ভিড়। পর্যটন বিকাশে বেকারত্ব দূর হয়েছে বুঝিয়ে মমতা বললেন, ‘‌আমি চাই আপনাদের বাড়ির ছেলেমেয়েরা এখানেই কাজ করবে। হলদিয়া ও দিঘাকে কেন্দ্র করে কত কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আগামী দিনে কারও বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। বাড়িতে থেকেই সকলে কাজ করতে পারবে।’‌ এদিন জেলা প্রশাসনের মস্তিষ্কপ্রসূত বহু প্রতীক্ষিত ‘‌পিঙ্ক ক্যাব’‌ প্রকল্পের সূচনা করে পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করে বললেন, ‘‌এইভাবে মহিলারাও আগামী দিনে এগিয়ে যাবেন।’‌ পিঙ্ক ক্যাবের মতো মন্দারমণিতে হোম–স্টে প্রকল্পের সূচনা করলেন।

এতে পর্যটন গতিশীল হবে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌তমলুক রাজবাড়ি–সহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে আরও বেশি করে হোম টুরিজম তৈরি করতে হবে। আমরা মন্দারমণিতে বাড়িতে বাড়িতে হোম টুরিজম করছি। আমরা দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছি। বাড়িতে সুন্দর টিভি লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সুন্দর করে বায়ো টয়লেট তৈরি করা হচ্ছে। ওখানে টুরিস্টরা থাকবে। আপনি ওই বাড়িতে থাকার ভাড়া ও খাবারের খরচ নেবেন। মহিষাদলে আমরা গান্ধীজির নামে বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। তমলুকে মেডিক্যাল কলেজ করা হচ্ছে। হলদিয়ায় ২০ হাজার কোটি বিনিয়োগ হচ্ছে। আরও বিনিয়োগ আসছে। তাজপুর বন্দর অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। এইসব কাজ সম্পূর্ণ হলে আরও অনেক নতুন শিল্প তৈরি হবে। রাস্তাঘাট চওড়া হচ্ছে, নতুন ডিগ্রি কলেজ, আইটিআই কলেজ, সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল হয়েছে। ১,১০০ কোটি টাকার জলের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২,৩০০ কোটি টাকার পানীয় জলের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। মা ও শিশুদের জন্য কঁাথিতে ১৩০ বেডের হাসপাতাল করা হচ্ছে।’‌
এদিন তিনি দিঘা ও তমলুক রেল লাইন তৈরির ইতিহাস স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘‌বাজকুলের মানুষের মনে আছে, দিঘা–তমলুকের রেল লাইনের দাবি কতদিন ধরে করছিলেন? এই কাজ কে করেছে? এই রেল লাইন আমি ৯ মাসে করে দিয়েছি। এমনকি নন্দীগ্রাম পর্যন্ত লাইন করে দিয়েছিলাম। এরা এই কাজ সম্পূর্ণ না করে ফেলে রেখে দিয়েছে। মাথায় রাখবেন, আমরা আবার সুযোগ পেলে এটা তৈরি করব।’‌ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং সাংসদ শিশির অধিকারীও।

জনপ্রিয়

Back To Top