যজ্ঞেশ্বর জানা, দিঘা: বড় ইলিশের দেখা নেই। জালে উঠছে দেড়–দুশো গ্রামের খোকা। যা ধরা–কেনা–বেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আইন মানারও কেউ নেই। প্রতিদিন দেদারে নিধন হচ্ছে খোকা ইলিশ। আর তা চোরাপথে পড়শি ওডিশার পাইকারি বাজার হয়ে ঢুকে পড়ছে এ রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন বাজারে গেলেই এখন দেখা মিলছে নিষিদ্ধ খোকা ইলিশের। 
ইলিশের খরা কাটেনি এখনও। মৎস্যজীবীদের কথায়, ‘‌ইলিশ এবার অপ্রতুল। স্বাভাবিকভাবে পাতে খোকা ইলিশের কদরই যে এবার বেশি। তাই বেশ চড়া দামেই বিকোচ্ছে খোকাও।’‌
কিন্তু এভাবে ছোট ইলিশের নিধন চললে আগামীতে ইলিশের দেখা মিলবে তো? সংশয়ের এমন প্রশ্ন বহু পুরোনো। বহু ব্যাখ্যাও আছে। খোকা ইলিশ ধরা, কেনা, বেচা বন্ধে জারি রয়েছে ফরমান। তবুও কেন রোধ হচ্ছে না খোকা ইলিশ নিধন? সব মৎস্যজীবীই যে এমন বেআইনি কাজ করছেন তা নয়। কিন্তু যঁারা করছেন বাধ্য হয়েই করছেন বলে দাবি, মৎস্যজীবী সংগঠকদের। দিঘার মৎস্যজীবী সংগঠনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, ‘‌আইনের ফঁাক রয়েছে। ইলিশ ধরা জালের ফঁাস করা হয়েছে ৯০ মিলিমিটার, বাকি মাছের জন্য ৪০ মিলিমিটার। ছোট ফঁাসের ওই জালেই উঠছে ছোট ইলিশ। দিঘা মোহনার আড়তে ছোট ইলিশ কেনা–বেচা বন্ধ রাখা হয়েছে। কেউ কেউ লুকিয়ে বিক্রি করছেন। তবে বেশি পরিমাণ ইলিশ ওডিশার কীর্তনিয়ার পাইকারি বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে আসছেন মৎস্যজীবীরা। ওডিশাতেও প্রচুর ছোট ইলিশ ধরা পড়ছে।’‌
চলতি মরশুমে দিঘার আড়তে সব মিলিয়ে খুব বেশি হলে ৮০–১০০ টন মতো ইলিশের নিলাম হয়েছে। শুরু থেকেই ইলিশের সঙ্কট এবার। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি আর পুবালি বাতাসে সমুদ্রে পাড়ি দিয়ে ইলিশলাভ করতে সক্ষম হয়েছেন কিছু মৎস্যজীবী। কিন্তু জালে যে পরিমাণ ইলিশ উঠেছে তার সিংহভাগ একেবারেই খুদে। দেড়–দুশো গ্রাম। একটু বড় মাপের ইলিশগুলোর ওজন ৩৫০–৪০০ গ্রাম। পৃথক ওজনের তাই পৃথক দামে আর পৃথক পদ্ধতিতেই হচ্ছে বিক্রি। পাইকারি বাজারে নিলাম হচ্ছে ৩৫০–৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশে। আর ঝাউবনে, খালপাড়ে আর ওডিশার বাজারে গিয়ে চোরাই পথে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে খোকা ইলিশ। খোলাবাজারে যার দাম ৪০০ টাকা। দিঘা মৎস্যজীবী সংগঠনের অন্যতম কর্মকর্তা নবকুমার পয়ড়্যা বলেন, ‘‌আইন আছে, ২৩ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ ধরা যাবে না। জরিমানার সঙ্গে মাছ বাজেয়াপ্ত করার আইন আছে। আমরা গত বছর কয়েক টন ছোট ইলিশ কাকদ্বীপে মাটি খুঁড়ে পুতে ফেলেছিলাম সাংগঠনিক ভাবে। কিন্তু এবার ভুটভুটির ছোট জালেই উঠছে এই ছোট ইলিশ। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’‌
খোকা ইলিশ ধরা, কেনা–বেচা চলছে এ কথা স্বীকার করছেন মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকরাও। কাঁথির সহ–মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক) সুরজিৎ বাগ বলেন, ‘‌ছোট ইলিশ বেশি ধরা হচ্ছে ওডিশাতে। আমাদের এদিকেও ধরা হচ্ছে। আমরা মৎস্যজীবীদের সতর্ক করেছি। আবারও প্রচারে নামা হবে। হানা দেওয়া হবে বাজারগুলোতে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top