যজ্ঞেশ্বর জানা, দিঘা: পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সফর সেরে শুক্রবার দুপুরে দিঘা থেকে কলকাতা ফিরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ফেরার পথেই দিঘাকে দিয়ে গেলেন জোড়া উপহার। তিনতারা হোটেল আর আধুনিক পার্কিং প্লাজা। নিউ দিঘায় স্টেশন লাগোয়া রাজ্য পর্যটন নিগমের হোটেল লারিকার সংস্কার কাজ চলছে এখন। লারিকা হোটেলকেই তিনতারার পরিকাঠামোয় উন্নীত করার পরিকল্পনায় সিলমোহর দিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২–৩ মাসের মধ্যে এই কাজ শেষের সময়সীমা নির্ধারণও করে দিয়েছেন তিনি।
সৈকতনগরী দিঘায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে সমস্যা দীর্ঘদিনের। গাড়ি পার্কিং করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাড়ি রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। অথচ দিঘায় দিন দিন পর্যটকের ভিড় বাড়ছে। যার সমাধানে আধুনিক পার্কিং প্লাজা তৈরি করবে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর। পার্কিং প্লাজার একাংশে থাকবে হকার জোন। পার্কিং প্লাজার ডিজাইন ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পরই পরবর্তী কাজ শুরু হবে। লারিকা হোটেল সংলগ্ন দুটি জায়গাও চিহ্নিতও করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার দিঘার প্রশাসনিক বৈঠকে সৈকতের পর্যটন বিকাশে গুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যার অন্যতম ছিল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে তীর্থক্ষেত্র গড়ে তোলা। দিঘা থেকে ফেরার আগে শুক্রবার সেই মন্দির পরিদর্শন করেন মমতা। দ্রুত ডিজাইন ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। তদারকি বৈঠকে লারিকা হোটেলের কাজকর্মের বিষয়ে নজর দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর রাতারাতি সেই হোটেলকে তিনতারা হোটেলে উন্নীত করার কথাও জানিয়ে দেন। 
শুক্রবার কপ্টারে ওঠার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পার্কিং প্লাজা এবং তিনতারা হোটেলের কথা জানান পরিবহণ ও পরিবেশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রী বলেন, ‘‌জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী যে পর্যটন বিকাশের কথা ঘোষণা করেছিলেন, সে কাজ তিনি দ্রুত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে শুরু করতে বলেছেন। পর্যটন দপ্তর এবং দিঘা–শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ এ কাজ করবে। তিনতারা হোটেলের আদলে গড়ে তোলা হবে লারিকা হোটেলকে। আর আন্ডারগ্রাউন্ড যুক্ত একটি পার্কিং প্লাজা গড়ে তোলা হবে। পরিবহণ দপ্তর করবে এই কাজ।’‌ 
দিঘার প্রশাসনিক বৈঠকে জগন্নাথ মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‌মানুষ যখন পুরী যান, তখন সমুদ্র দেখার পাশাপাশি জগন্নাথ মন্দিরে পুজোও দেন। রথ দেখা কলা বেচা দু’টি কাজ একই সঙ্গে হয়। এখানকার ছোট জগন্নাথ মন্দিরকে বড় করে করতে হবে। এতে এলাকার পর্যটন শিল্পের বিকাশ হবে।’‌ ঘোষণা মতো দ্রুত পরিকল্পনার নির্দেশ দেওয়ায় জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং দিঘা–শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য দেবব্রত দাস বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী তাঁর স্বপ্নের দিঘাকে আন্তর্জাতিকস্তরে তুলে ধরার জন্য সমস্ত কিছুকে নতুন করে গড়তে চাইছেন। সেকারণে তিনতারা হোটেল এবং পার্কিং প্লাজা তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন। দ্রুতই এই তিন পরিকল্পনা রূপায়ণ হবে।’‌

দিঘা থেকে ফেরার পথে মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার দুপুরে। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top