উদয় বসু: কামারহাটি সাগর দত্ত হাসপাতাল শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। এমনিতেই চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ থাকায় রোগীর পরিজনদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আগুনে ঘি পড়ার মতো অবস্থা হয়। উত্তেজিত রোগীর পরিজনেরা অবিলম্বে চিকিৎসা পরিষেবার দাবি নিয়ে এদিন সকালে সাগর দত্ত হাসপাতালের সামনে বিটি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অফিস টাইমে অবরোধ হওয়ায় দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় মানুষকে। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে ১০ মিনিট পর অবরোধ উঠে যায়। ক্ষিপ্ত মানুষ হাসপাতালের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। হাসপাতালের এমার্জেন্সির গেটের তালা ভেঙে ফেলেন তাঁরা। পুলিশের সহযোগিতায় চিকিৎসা পরিষেবা চালু হয়। এদিকে ডাক্তাররা এদিনও তাঁদের নিরাপত্তার দাবিতে অনড় থাকেন। নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনায় বসেন। অন্যদিকে এদিনের ঘটনার প্রতিবাদে মেডিসিনের প্রফেসর ড.‌ পার্থ চ্যাটার্জি, সহকারী প্রফেসর অমৃত বিশ্বাস, ড.‌ শিশির চক্রবর্তী, ড.‌ শক্তিবর্ধন মান্ডি, আরএমও ড.‌ রানা রজক–‌সহ ১১ জন ডাক্তার ইস্তফা দেন। এদিন হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা গেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ খোলা রয়েছে। ডাক্তাররা তাঁদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। হাসপাতালে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানান, জুনিয়র চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনার প্রতিবাদ করছি। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা না করে তাঁদের ফেরাতে পারছি না।‌ জানা গেছে, দু’‌দিন আগে মধ্যমগ্রাম গঙ্গানগরের বাসিন্দা অভিজিত বিশ্বাসের স্ত্রী সাগর দত্ত হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। কিন্তু এনআরএস কাণ্ডের জেরে শিশুটিকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হলেও কোনও লাভ হয় নি। তাকে ফের সাগর দত্তে নিয়ে আসা হয়। তাকে পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেশনে রাখার দরকার হয়। কিন্তু ডাক্তারদের কর্মবিরতির ফলে প্রাণ হারায় নিষ্পাপ শিশুটি। 

জনপ্রিয়

Back To Top