বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর: যিনি যেমন কর্ম করবেন, তঁাকে তেমন ফলই ভোগ করতে হবে। বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ প্রসঙ্গে এই প্রবাদ বাক্যই শোনা গেল ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী অভিনেতা দেবের গলায়। শনিবার তিনি মনোনয়ন পেশ করেন। এদিন সকাল ১১টা নাগাদ তৃণমূলের ফেডারেশন ভবন থেকে মিছিল শুরু হয়। একটি হুড খোলা গাড়িতে দলের কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে ছিলেন দেব। ব্যান্ড, রণ–পা, ছৌ–নাচ, আদিবাসী মহিলাদের নৃত্য, ঢাক নিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিল এসে পৌঁছয় মেদিনীপুরে কালেক্টরেট চত্বরে। ততক্ষণে রাস্তার ধারে দেব দর্শনের ব্যাপক ভিড়। দেবের গাড়ি পুলিশ ব্যারিকেডের সামনে থামতেই সেলফি তোলার হুড়োহুড়ি। একবার হাত মেলানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা। ভিড় সামলে রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা, ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দোলইকে সঙ্গে নিয়ে জেলাশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন দেব।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর দেব বলেন, ‘‌ভারতী ঘোষ তঁার কৃতকর্মের ফলই ভোগ করছেন।’‌ ঘাটাল লোকসভার গত ৫ বছরের সাংসদ দেব এবারও একই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন। তঁার বিরুদ্ধে বিজেপি–র প্রার্থী হয়েছেন জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ। কয়েক দিন আগে তিনি বলেছিলেন, সিআইডিকে দিয়ে রাজ্য সরকার হেনস্থা করেছে। এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দেবের সাফ কথা, ‘‌তিনি দেড় বছর লুকিয়ে না থেকে, পালিয়ে না বেড়িয়ে সিআইডিকে সহযোগিতা করলে এই দিনটা তঁাকে দেখতে হত না।’‌ এরপরই তঁাকে বলতে শোনা যায়, ‘‌তিনি যেমন কর্ম করেছেন, তেমনই ফল ভোগ করছেন। বিরোধী দলের অনেকেই তো প্রার্থী হয়েছেন, তঁাদের সবাইকে তো সিআইডি জেরা করতে যাচ্ছে না। ভারতী দেবী জেলার এসপি ছিলেন। আইন ভালই জানেন। তঁার বিরুদ্ধে যে চার্জগুলি রয়েছে, তা নিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করলে ভাল। না হলে ফল ভুগতে হবে। মানুষকে বোকা বানানো এত সহজ নয়। নির্বাচনের আগে সিবিআই এই রাজ্যে যা করছিল, সেটা তা হলে কী ছিল?’‌ শুধু তাই নয়, তঁার দাবি, ‘‌টাকা রোজগার করতে রাজনীতিতে আসিনি। রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, শালীনতাবোধ, শিষ্ঠাচার, সৌজন্য যাতে ফিরে  আসে, সেইজন্যই কাজ করছি। আমার বিশ্বাস, মানুষ আমাকে নিরাশ করবেন না।’‌
 

 

 

মেদিনীপুরে দেব। ছবি: স্বরূপ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top