Death: অজানা জ্বরে স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু 

মিল্টন সেন, হুগলি: জেলা জুড়ে ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত।

তার মাঝেই এবার বাড়ল অজানা জ্বরের ভয়। মৃত্যু হল এক স্বাস্থ্যকর্মীর। মৃতার নাম বিম মিত্র (২৩)। ডানকুনির বাসিন্দা ওই নার্স শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়। 
হুগলি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রমা ভুঁইয়া জানিয়েছেন, অজানা জ্বরে মৃত্যু হয়েছে নার্সের। বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বর ছিল তাঁর। ডেঙ্গি পরীক্ষা করা হয়েছিল। এন এস –১ নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। আরও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে রিপোর্ট আসার আগেই মৃত্যু হয় বিম দেবীর। সিএমওএইচ বলেন, এই সময় ডেঙ্গি বাড়ছে। তাই জ্বর হলেই অনেকে মনে করছেন ডেঙ্গি হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এনসেফালাইটিস, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া হচ্ছে অনেকেরই। তাই জ্বর হলে ফেলে রাখা যাবে না। জেলার ১৮ টা ব্লক হাসপাতাল ও ৫ টা বড় হাসপাতালে আলাদা করে ফিভার ক্লিনিক খোলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হুগলি জেলায় ১৬০০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ৪০০ জন হাসপাতালে ভর্তি, ২০০ জন চিকিৎসা করাচ্ছেন বাড়িতেই। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক আরও জানান, বুধবার শ্রীরামপুর মহকুমা দপ্তরে ডেঙ্গি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম, জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া সহ প্রশাসনিক কর্তারা। বৈঠকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতি সপ্তাহেই কেস বাড়ছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা ইত্যাদি নিয়ে স্পেশাল ড্রাইভ নেওয়া হবে। যে সব এলকায় অজানা জ্বর অতিদ্রুত ছড়াচ্ছে, সেই সমস্ত এলাকায় দুটি পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালানো হবে। প্রথমত লার্ভা রোখার চেষ্টা করা হবে। পুজোর আগে ২২শে সেপ্টেম্বর থেকে ২৯শে সেপ্টেম্বর অবধি। দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ হবে পুজোর পর ১১ই অক্টোবর থেকে ১৮ই অক্টোবর অবধি। প্রাথমিকভাবে কোথায় কোথায় দ্রুত ছড়াচ্ছে সেই সমস্ত এলাকা যেমন, ওয়ার্ড ও গ্রামপঞ্চায়েত এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে দেওয়া হচ্ছে। পুজোর সময় বহু চায়ের ভাঁড় ও নারকেল খোল ইত্যাদি পড়ে থাকে। তাতে জল জমে। স্বাস্থ্য আধিকারিক আশাবাদী সেই সব পরিষ্কার করলে পুজোর পরে প্রকোপ রোখা সম্ভব হবে। দ্বিতীয়ত জেলার সমস্ত হাসপাতালে ফিভার ক্লিনিক খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আলাদা ভাবে ফিভার ক্লিনিক খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রোগীদের কোনওরকম অপেক্ষা করতে না হয়। চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতাল, চন্দননগর, শ্রীরামপুর, আরামবাগ মহকুমা হাসপাতাল এবং উত্তরপাড়া স্টেট জেনেরাল হাসপাতালে ২৪ ঘন্টার ল্যাব খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। ২৪ ঘন্টার মধ্যে টেস্ট এবং ৪ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি যাতে না হয় সেই লক্ষ্যে সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বড় হাসপাতালের ডেপুটি লেভেল অফিসারদের। লক্ষ রাখা হচ্ছে যাতে রোগী ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু করা যায়।

আকর্ষণীয় খবর