অমিতাভ বিশ্বাস, করিমপুর: স্ত্রী ও শাশুড়ির চড় খেয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। দাবি মৃত ওই যুবকের মেয়ের। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে হোগলবেড়িয়া থানার আরবপুর গ্রামের রায়পাড়ায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম মিলন সাহা (‌২৯)।‌ বাড়ি করিমপুর থানার নাটনা গ্রামের পোদ্দার পাড়ায়। বছর পনেরো আগে রায়পাড়ার স্বপ্নার সঙ্গে তঁার বিয়ে হয়। পেশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন মিলন। তঁার বছর এগারোর একটি মেয়ে ও পঁাচ বছরের ছেলে রয়েছে। মেয়ের নাম নূপুর ও ছেলে আদিকে নিয়ে তঁাদের সংসার। আর্থিক সঙ্কটের জন্য সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত।
অভিযোগ, মাঝে মধ্যেই মিলন অতিরিক্ত মদ্যপান করে বেসামাল হয়ে পড়তেন। কিছুদিন আগে পারিবারিক বিবাদের জন্য তঁার স্ত্রী স্বপ্না বাপের বাড়ি চলে যান। মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর দুপুরে শ্বশুরবাড়ি যান মিলন। এরপর রাতে শ্বশুরবাড়ির সামনে থেকে তঁাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। করিমপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তঁাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এমনই দাবি করেন মিলনের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। যদিও এই ঘটনা অস্বীকার করেছে মেয়ে নূপুর। সে দাবি করে, ‘‌মঙ্গলবার রাত আটটা নাগাদ মদ খেয়ে বাবা মামাবাড়িতে এসেছিল। আমিও সেখানে ছিলাম। মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হলে মা বাবাকে চড় মারে। পরে দিদিমার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হতেই বাবাকে দিদিমাও চড় মারে। কিছুক্ষণ পরে সব ঠিক হলে বাবা ঘরে শুয়ে পড়ে। রাতে দেখি বাবা গলায় কাপড় বঁাধা অবস্থায় ঝুলছে। মনে হয় মা ও দিদিমা চড় মারার জন্যই বাবার মৃত্যু হয়েছে। আমি সব পুলিশকে বলেছি।’‌
মেয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে মৃতার স্ত্রী শম্পা সাহা বলেন, ‘‌স্বামীর ওপর কোনও নির্যাতন করা হয়নি, অভিমানেই স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। মেয়েকে কেউ ভুল বুঝিয়ে আমাদের ফঁাসানোর চেষ্টা করছে।’‌ পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তবে কোনও অভিযোগ এখনও জমা পড়েনি।

জনপ্রিয়

Back To Top