আজকালের প্রতিবেদন- রবিবার রাত থেকে সোমবার সন্ধে পর্যন্ত চার জেলায় বজ্রপাতে মৃত্যু হল ১৬ জনের। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ঘটনাগুলি ঘটেছে পুরুলিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম ও হুগলিতে। পুরুলিয়াতেই মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে পুরুলিয়ার মফস্‌সল থানা এলাকায় রয়েছেন ৩ জন। তঁারা হলেন পরীক্ষিত বাউড়ি (৪২), বাড়ি কুড়দা গ্রামে। হরেকৃষ্ণ রেওয়ানি (৬২), বাড়ি চাকোলতোড়। মীরা মাহাতো (৩৩), বাড়ি চাকিরবন গ্রামে। বরাবাজারে মৃত্যু হয়েছে মতিলাল মাহাতোর (৮০)। মাঠে ধান রোপণের সময় মৃত্যু হয় নীলিমা মাহাতো (২৫) ও সুন্দরী কর্মকারের (৫৫)। তঁাদের বাড়ি রাউতাড়া গ্রামে। পাড়া থানার পাঠকডি গ্রামে মৃত্যু হয় বিজলা মাহাতো (৬১) ও তেঁতুল সিটি গ্রামের কুশ মাহাতোর (২৫)। সঁাওতালডির কাকিবাজার এলাকায় নিমাই সিং (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। প্রসঙ্গত, গত মাসে একইভাবে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছিল ৭ জনের। 
অন্যদিকে, বৃষ্টির মধ্যে চাষের জমিতে কাজ করার সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের শান্তিগাছি গ্রামে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় বাবা, ছেলে–সহ ৩ জনের। মৃতেরা হলেন শ্রীবাস মৃধা (‌৫২)‌ ও হরপ্রসাদ মৃধা (‌২৭)‌। দু’‌জনেই জমিতে চাষের কাজ করছিলেন। একইভাবে লাহেড়িপুরের পরশমণি গ্রামেও জমিতে কাজ করার সময় মৃত্যু হয়েছে কপিল মণ্ডল (‌৩৭)‌ নামে এক যুবকের। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর দেড়টা নাগাদ আকাশে কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে। তারপর তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। ঘন ঘন বাজ পড়তে থাকে। বৃষ্টির মধ্যেই ধান রোয়ার কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন ছেলে–বাবা এবং কপিল নামে ওই যুবক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃষ্টি হওয়ায় সকলে আনন্দে মাঠে কাজ করছিলেন। বজ্রপাতে আহত হন বাবা ও ছেলে। তঁাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে দু’‌জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এরপরই পরশমণি গ্রামেও বজ্রপাতে মারা যান কপিল। তঁাকেও হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।  
ঝাড়গ্রাম জেলায় মারা গেছেন দুই মহিলা–সহ ৩ জন। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে জেলার লালগড় ও বেলিয়াবেড়া থানা এলাকায়। লালগড়ের ভাঙাডালিতে মাঠে ধান লাগানোর কাজ করছিলেন নিলীমা শবর (৩১)। বাজের আঘাতে ঝলসে যান নীলিমা। লালগড় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসার পথে মারা যান তিনি। বেলিয়াবেড়ার গোয়ালমারার কাছে মৃত্যু হয় ২ জনের। মৃতেরা জীতেন সিং (৩৩) ও কুনকি দোলাই (২৫)। জীতেনের বাড়ি বনকাটি গ্রামে এবং কুনকির বাড়ি একই থানা এলাকার সোনাকাদা গ্রামে। সন্দেহ করা হচ্ছে তঁারা বৃষ্টির হাত থেকে বঁাচতে বঁাশ বাগানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সময় বাজ পড়ে। ঘটনাস্থলেই দু’‌জনে মারা যান। হুগলির পাণ্ডুয়ার বেলুন ধামাসিন গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্দ্রহাটিতে বাজ পড়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। নাম মহাদেব বাউল দাস (২৮)। সোমবার সকালে মাঠে কাজ করার সময় তিনি বজ্রাহত হন। স্থানীয় মানুষ উদ্ধার করে পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তঁাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। 

তথ্যসূত্র:‌ দীপেন গুপ্ত, গৌতম চক্রবর্তী, সোমনাথ নন্দী‌ ও মিল্টন সেন

পুরুলিয়ার বরাবাজারে বাজ পড়ে মৃত মহিলা। ছবি:‌ দীপেন গুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top