বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর: ‘‌দিদিকে বলো’‌ কর্মসূচিতে গিয়ে দঁাতনের মানুষের মন ছুঁলেন তৃণমূল সাংসদ মানস ভুঁইয়া। টানা পঁাচদিন ধরে রাজ্যসভার এই সাংসদ পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন ব্লকে ‘‌দিদিকে বলো’‌ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দঁাতনের তৃণমূল বিধায়ক বিক্রম প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে ‘‌দিদিকে বলো’‌ কর্মসূচিতে যোগ দেন সাংসদ। দাঁতন–১ ব্লকের ৯ নম্বর  গ্রাম পঞ্চায়েতের কুঞ্জবাগড়া গ্রামে যান। 
গ্রামের স্কুলের মাঠে ম্যারাপ বেঁধে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী তঁার দলের জনপ্ৰতিনিধিদের পাঠিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামে। তাই মানসবাবুর কাছে নিজেদের অভাব অভিযোগ জানাতে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন কয়েকশো মানুষ। মঞ্চের কর্মসূচি সেরে নিজেই মাঠে বসে থাকা মানুষের কাছে চলে যান। এক এক করে সকলের কথা শোনেন তিনি। শুরুতেই তিনি বলে রাখেন, সরকার বা তঁার জনপ্রতিনিধিদের এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের কোনও কাজকর্মে সমস্যা বা মানুষের দুঃখ, দুর্দশার কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারেন। তিনি সব শুনবেন। কেউ জানান, গ্রামে সু–সংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প ঠিকমতো চলছে না। শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের পচা কলা দেওয়া হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ তোলেন। সহায়িকারা খারাপ আচরণ করেন। তিনি সেখান থেকেই বিডিও ও প্রকল্পের আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন। সমস্যা সমাধানের কথা বলেন। গ্রাম থেকে ২০০ মিটার দূরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পাইপ লাইন রয়েছে। কিন্তু গ্রামে জলের লাইন আসেনি। ফলে, দূর থেকে তাঁদের পানীয় জল আনতে হয়। এই কথা শুনে মানসবাবু দপ্তরের নির্বাহী বাস্তুকারের সঙ্গে কথা বলে গ্রামে সজলধারা প্রকল্প করে দেওয়ার আবেদন জানান। অনেকে জানান, তাঁদের রেশন কার্ড নেই, জব কার্ড নেই, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নেই। তিনি পরামর্শ দেন ব্লকে ও গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে ক্যাম্প চলছে সেখানে গিয়ে এই কার্ড করিয়ে নিন। সাংসদ তাঁদের কাছে জানতে চান, সকলের বসত বাড়ির কাগজপত্র, রেকর্ড আছে কিনা? প্রায় সকলেই জানান, তাঁদের এসব নেই। তিনি তাঁদের জানান, মুখ্যমন্ত্রী এবিষয়ে উদ্যোগী হয়ে বাড়ি, জমির রেকর্ড ও মিউটেশন করার ব্যবস্থা করেছেন। আপনারা ব্লক ভূমি সংস্কার দপ্তরে গিয়ে জানান। সেখান থেকেই এসব করা যাবে।

মানুষের হাতে দিদিকে বলো কার্ড তুলে দিচ্ছেন মানস ভুঁইয়া। শুক্রবার দাঁতনে। ছবি: প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top