বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর: আমফানের জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরে আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এ জন্য ব্লকভিত্তিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ধরে ধরে হিসেব চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (পঞ্চায়েত) প্রতিমা দাস জানান, ২,৮৯০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। ৯৪৫টি বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২৬,২০১টি বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ৭৭,১৩৬ জন মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। তাঁদের ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে। ট্রান্সফর্মারের ওপর, বিদ্যুৎ খুঁটির ওপর, তারের ওপর গাছ পড়ে দাঁতন ১ ও ২, মোহনপুর, পিংলা, নারায়ণগড় ব্লকের বেশ কিছু গ্রাম এখনও বিদ্যুৎহীন। ঝড়ে জলের ট্যাঙ্ক পড়ে পাইপলাইন উপড়ে যাওয়ায়, সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকার ফলে এই সব ব্লকে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস থেকে জলের গাড়িতে করে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দুর্গত মানুষের কাছে।
এদিকে আমফানের জেরে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার প্রক্রিয়া কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। ওডিশা সীমান্ত দিয়ে দাঁতনের সোনাকনিয়ায় যে এলাকা দিয়ে তাঁরা বাংলায় প্রবেশ করতেন, সেখানে তাঁদের জন্য যে স্বাস্থ্যপরীক্ষা কেন্দ্র ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, ঝড়ে তা ভেঙে গেছে। যাঁরা ছিলেন, ঝড়ের আগেই তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জেলা কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ গিরি জানান, আমফানের জেরে দাঁতন ও মোহনপুরে পান চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দাসপুর ২, গড়বেতা ১, ২, ৩ ব্লকের সবজি চাষের এবং চন্দ্রকোনা ব্লকে ধান চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মেদিনীপুর সদর ব্লকের আবাস এলাকা শুক্রবার পরিদর্শন করেন জেলার পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার। দুর্গত মানুষের হাতে তিনি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top