সোমনাথ নন্দী ও বুদ্ধদেব দাস,ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম থেকে মেদিনীপুর যাওয়ার রাস্তার ওপর বহাল তবিয়তে ঘোরাঘুরি করল দলমার এক দলছুট দঁাতাল হাতি। বুধবার সকালে গজরাজের এহেন আচরণে সমস্যায় পড়ে যাত্রীবাহী বাস, ট্রেকার–সহ বিভিন্ন যানবাহন। এদিকে, একপাল হাতির তাণ্ডবে দিশেহারা সঁাকরাইল ও ঝাড়গ্রাম থানার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। এলাকার মানুষ বেশ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। নয়াগ্রামের চঁাদাবিলা, পাতিনা এলাকা থেকে ২৫–৩০টি হাতির একটি দল তাড়া খেয়ে চাউলির জঙ্গল হয়ে ঢুকে পড়ে সঁাকরাইলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সেখান থেকে হাতিরা চলে আসে ছোটগহিরা, ডেরাগাড়িয়া, বারডাঙা, দুধকুণ্ডি, চুনপাড়া ইত্যাদি জায়গায়। এই সময় মাঠে রয়েছে উচ্চফলনশীল ধান। হাতির দল ধান জমিতে ঢুকে, পায়ে মাড়িয়ে, শুঁড়ে তুলে খেতে শুরু করে। এছাড়া সবজির খেতে ঢুকেও তাণ্ডব চালায়। এর ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়–ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে ছোটগহিরা, ডেরাগাড়িয়া, বারডাঙা, চুনপাড়া ইত্যাদি জায়গায়। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ডিএফও বাসবরাজ হোলেইচ্চি বলেন, ‘‌হাতিগুলিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু অনেকগুলো হাতি থাকায় সমস্যা হচ্ছে।’‌এদিকে, এদিন পাশের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে টিকরপাড়া, বেলিয়া, অর্জুনবঁাধের পার্শ্ববর্তী মেদিনীপুর যাওয়ার সড়কে চলে আসে একটি দলছুট দঁাতাল। রাস্তায় দাঁতালের ঘোরাঘুরিতে সাময়িক ভাবে যানযটের সৃষ্টি হয়। ‌ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কে এই দৃশ্য দেখে প্রথমে অনেকেই ঠাহর করতে পারেননি। এরপর যখন দেখেন দুলকি চালে একটি পূর্ণবয়স্ক দঁাতাল এগিয়ে আসছে, তখন আর কেউ সাহস করে এগিয়ে যাননি। হাতিটি প্রায় মিনিট পনেরো রাস্তার একপাশ থেকে আরেক পাশে যাতায়াত করে। কিছুটা এগিয়ে যায়, পিছিয়েও আসে। বনকর্মীরা আসার আগেই দঁাতালটি অঞ্জনবঁাধের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে। বিপদ কেটে যাওয়ায় এক–এক করে চলতে শুরু করে রাস্তার দুপাশে আটকা পড়া গাড়িগুলি।

জনপ্রিয়

Back To Top