চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, পূর্বস্থলী, ৫ মার্চ- রান্না করতে করতে আচমকা ফাটল গ্যাস সিলিন্ডার। ধরল আগুন। সেই আগুন ছড়াল পাশের বাড়িতেও। আগুনের লেলিহান শিখা সকাল থেকে বইতে থাকা জোরাল বাতাসের মদতে গ্রাস করল প্রায় গোটা গ্রাম। সোমবার দুপুরের আগুনে পূর্বস্থলীর নিমদহ পঞ্চায়েতের ধরমপুর গ্রামের ঘটনায় কাঁচা ও পাকা মিলিয়ে শতাধিক বাড়ি পুড়ে ছাই।
গ্রামের লোকজনেরা হোন্ডা মেশিন চালিয়ে আগুন আয়ত্তে আনার প্রাথমিক চেষ্টা করেন। কিন্তু গ্রামের পুকুরগুলির জল তলানিতে চলে যাওয়ায় আগুনের গতি থামানো যায়নি। তবে দিনের বেলায় ঘটনাটি ঘটে বলে হতাহতের খবর নেই। অবশ্য আগুনের ভয়াবহতা দেখে অনেক গ্রামবাসীই কমবেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকার উপর। সবথেকে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। পুড়েছে অ্যাডমিট, বইখাতা–সহ পড়াশোনার যাবতীয় জিনিস। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রূপা দাসের হাহাকার, ‘অ্যাডমিট, বইখাতা —সব পুড়েছে। বাড়িঘরও ছাই। কীভাবে পরীক্ষা দেব?‌ বইখাতা কোথায় পাব?‌ কোথায় থাকব?‌ কী খাব?‌ —কিছুই বুঝতে পারছি না।’ গ্রামে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ জন। উচ্চমাধ্যমিক দেবে ১২ জন। আগুন লাগে সোমবার বেলা ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ। রান্না করছিলেন ধরমপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার বধূ প্রণতি দাস। আচমকা ফেটে যায় ঘরের গ্যাস সিলিন্ডারটি। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে পাশাপাশি বাড়ির আরও চারটি গ্যাস সিলিণ্ডার ফাটে। ক্রমশ আগুন ছড়ায় লাগোয়া মুসলিম পাড়ায়। খবর শুনে কাটোয়া, কালনা ও কৃষ্ণনগর থেকে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসে। তবে বিকেল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনে ছাই হয়ে যাওয়া বাড়ির বাসিন্দা বাসু দাস, কার্তিক দাস, নূরুল ইসলাম, মোক্তার শেখরা জানালেন, ‘গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দাই দিন আনা–দিন খাওয়া পরিবারের। কেউ তাঁত বোনে, কেউ জন খাটে, কারও সামান্য জমি আছে, তাতে চাষ করে। চরম সর্বনাশ হয়ে গেল সকলের!‌’
তবে ঘটনার পরই ধরমপুরে ছুটে এসেছেন সংশ্লিষ্ট পূর্বস্থলি ২নং ব্লকের বিডিও সোমনাথ দে, দুই প্রাক্তন বিধায়ক তপন চ্যাটার্জি (তৃণমূল), সুব্রত ভাওয়াল (সিপিএম), স্থানীয় নেতা আকবর শেখরা।

বাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখছেন স্থানীয়রা। ছবি:‌ বুবাই মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top