যজ্ঞেশ্বর জানা,তমলুক: এরাজ্যে সিআইডির দায়ের করা সাইবার অপরাধ মামলায় এই প্রথম শাস্তি দিল আদালত। সেকারণেই এই রায় ঐতিহাসিক। মামলা শুরুর ৪২ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করেছিলেন গোয়েন্দারা। আর শুনানি শুরুর ৫ মাসের মধ্যেই সাজা ঘোষণা করে মামলার নিষ্পত্তি করল আদালত। মামলায় দোষী সাব্যস্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র অনিমেষ বক্সিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। একইসঙ্গে ৯ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। 
পাঁশকুড়ার একটি কোচিং সেন্টারের পড়ার সুবাদে এক ছাত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল কলকাতার একটি নামী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অনিমেষ বক্সির৷ তার বাড়ি পাঁশকুড়ার রাধাবল্লভচকে। পরবর্তী সময়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক তৈরি হয় অনিমেষের। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দেয় সে৷ সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে ফোন করে প্রেমিকাকে নগ্ন ছবিও দিতে বলত অনিমেষ। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি ছাত্রীটি। অভিযোগ, এরপরই ওই ছাত্রীর মোবাইল হ্যাক করে তাঁর গোপন ছবি চুরি করে অভিযুক্ত৷ সেই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে তরুণীকে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির জন্য চাপ দিতে থাকে৷ রাজি না হাওয়ার একটি পর্ন সাইটে ছাত্রী ও তাঁর বাবার নামে অ্যাকাউন্ট খুলে সব ছবি আপলোড করে দেয় ৷ সেই সঙ্গে ছাত্রীর ফোন নম্বরও উল্লেখ করে দেওয়ায় বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে তরুণীকে বিব্রত করতে শুরু করে বিভিন্ন জন৷ এঘটনায় অভিযোগ জমা পড়ে পুলিসের কাছে। সাইবার ক্রাইমের অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি তদন্ত শুরু করে ২০১৭ সালের ২১ জুলাই। এর পরই পাঁশকুড়া থেকে অনিমেষকে গ্রেফতার করে সিআইডি। 
মামলা শুরুর ৪২ দিনের মাথায় তমলুক আদালতে চার্জশিট পেশ করে সিআইডি। বুধবার তমলুক আদালতের থার্ড কোর্টের বিচারক গৌতমকুমার নাগ অনিমেষকে দোষী সাবস্ত করেন। এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ড-সহ ৯ হাজার টাকা জরিমানার সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ে খুশি ছাত্রীর পরিবারের লোকজন। মামলার সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন,  ‘‌দ্রুতগতিতে যতগুলি সাইবার অপরাধের মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম এই মামলাটি। বিচারক ক্রিমিনাল প্রসিডিওর কোডের ৩৫৭ (এ) ধারায় রাজ্য সরকারকে নিগৃহীত ছাত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করি, আগামী দিনে কেউ এমন কাজ করার আগে অবশ্যই ভাববে।’ এই ঘটনায় অপরাধী যেহেতু একজন ছাত্র, তাই দু’মাসের মধ্যে তাকে উচ্চ আদালতে আবেদন জানানোর অনুমতিও দিয়েছে আদালত। অন্যান্য রাজ্যের মতো এ রাজ্যেও  ক্রমেই বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সম্পর্কে চিড় ধরলেই প্রেমিকা বা বান্ধবীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি পর্ন সাইটে কিংবা সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু অপরাধ বাড়লেও আইনি ব্যবস্থা বা সাজা দানের ঘটনা তেমনভাবে আগে নজরে আসেনি। বুধবার তমলুক আদালত রায় তাই এক অর্থে অপরাধীদের প্রতি কড়া সতর্কবার্তাও। 

জনপ্রিয়

Back To Top