আজকালের প্রতিবেদন: ‌কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যেতে রাজি বাংলার সিপিএম। পরোক্ষে, ভোটের সময় তাঁরা আসন ভাগাভাগির কথা বললেন। দলের রাজ্য সম্মেলনে রাজনৈতিক–‌সাংগঠনিক খসড়া প্রস্তাবে এমন কথাই বলা আছে। প্রস্তাবে এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‌তৃণমূল ও বিজেপি–বিরোধী সমস্ত দল, গোষ্ঠী, সামাজিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বড় মঞ্চ তৈরি করতে হবে। তৃণমূল ও বিজেপি–বিরোধী প্রধান দল হিসেবে কংগ্রেসের নামই প্রথমে আসে। এবারের রাজ্য সম্মেলনে সব বাম দলকে এক জায়গায় করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, বিজেপি ও তৃণমূল দুটি দলকে বাদ দিয়ে ভোটে সমঝোতা করা হবে। বিজেপি–কে হারানোই আমাদের মূল কর্তব্য। এ জন্য বিকল্প নীতি তৈরি হবে। তিনি বলেন, এ কথা ঠিক, আমাদের দলের ক্ষয় হচ্ছে। কেন হচ্ছে, কী অভাব, কী করে পূরণ করতে হবে— তা আমরা ঠিক করব। সব গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সঙ্গে আমরা হাত মেলাতে চাই। পার্টি কংগ্রেসে দলের রণকৌশল ঠিক হবে। 
রাজ্য সম্মেলনের রাজনৈতিক–‌সাংগঠনিক প্রস্তাবে মূল ৪টি আশু কর্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি–বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সমঝোতা করা ছাড়া আরও যে ৩টি দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে তা হল:‌ ১.‌‌ চরম দক্ষিণপন্থী ও উগ্র উদারবাদী অর্থনীতির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য দলের ক্ষমতা বাড়াতে হবে। ২.‌‌ বামফ্রন্টের ঐক্য আরও সংহত হওয়া চাই। ৩.‌‌ ফ্রন্ট–বহির্ভূত বাম ও বাম সহযোগী দলগুলিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি নিতে হবে।
রাজ্য সম্মেলনে বিকল্প মোর্চা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। মতাদর্শগত ও রাজনৈতিক মান উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে পার্টি–শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। মার্কসবাদ–‌লেনিনবাদকে আপ্তবাক্য হিসেবে গ্রহণ না করে পথনির্দেশক হিসেবে আয়ত্ত করতে হবে। একেই পার্টি–শিক্ষার মূল অভিমুখ করতে হবে। 
এদিন সীতারাম ইয়েচুরি ও দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সীতারাম বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে হারাতে হলে সব বামপন্থী দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তা ছাড়া পাশে পেতে হবে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিকে। সাংবাদিকেরা সীতারামকে বলেন, দিন দুয়েক আগে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের কথা হয়। তা হলে আপনারা কি কেসিআর–‌এর দলকে পাশে পাবেন না?‌ এর জবাবে সীতারাম বলেন, ওঁদের কথাবার্তার আগেই আমার সঙ্গে কেসিআর–‌এর দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। তিনি আরএসএসকে সরাসরি ফ্যাসিস্ট শক্তি বলেন। বিজেপি সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, বিজেপি আরএসএস–‌এর রাজনৈতিক ফ্রন্ট। আরএসএস নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। তাই প্রথমে জনসঙ্ঘ তৈরি হয়েছিল, পরে বিজেপি। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিজেপি কথা রাখতে পারছে না। কোথায় গেল বছরে ২ কোটি চাকরি?‌ যুবকেরা চাকরি চায়, নিরাপত্তা চায়। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার অন্ধ্রপ্রদেশে তেলুগু দেশম নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুকে তাঁর রাজ্যের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এক পয়সাও দেওয়া হয়নি। 
এদিন রাজ্য সম্মেলনে ত্রিপুরা ছাড়া ৪টি প্রস্তাব আসে। তৃণমূল ও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ২টি প্রস্তাব পেশ করা হয়। পঞ্চায়েত নিয়েও একটি খসড়া প্রস্তাব আসে। কার্ল মার্কসের দ্বিশত জন্মবর্ষের ওপর আসে শেষ প্রস্তাবটি। প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে রাজ্য সম্মেলন চলছে। প্রেসিডিয়ামে ছিলেন বিমান বসু, রামচন্দ্র ডোম, দেবলীনা হেমব্রম, সমন পাঠক, আনারুল হক। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top