অমিতাভ বিশ্বাস, তেহট্ট, ৩০ মার্চ- তেহট্টের বার্নিয়ার করোনা আক্রান্ত পাঁচ যাত্রীকে বহন করা অটোচালককে শনাক্ত করল পুলিশ। সোমবার এই অটোচালককে দিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা ৬৭ জনকে শনাক্ত করা গেছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। আগেই ৪৯ জনকে চিহ্নিত করেছিল স্বাস্থ্য দপ্তর। ইতিমধ্যে ট্রেনে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা এক মহিলা নিজের পরিচয় জানিয়েছেন স্বাস্থ্য দপ্তরকে। 
বার্নিয়া গ্রাম এখন শুনশান। গ্রামে ছড়ানো হচ্ছে জীবাণুনাশক। তেহট্টের এসডিপিও শান্তনু সেন জানান, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা অটোচালককে শনাক্ত করার কাজ ভীষণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। সোমবার নাকাশিপাড়া থানার একটি গ্রামে চালকের বাড়ির সন্ধান মেলে। ওই বাড়িতে চিকিৎসক ও পুলিশকর্মীরা যান। অটোচালকের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের সকলের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। পরিবারের কারও শরীরে কোনও উপসর্গ পাওয়া যায়নি। তঁাদের বলা হয়েছে, ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে। যদিও অটোচালক জানিয়েছেন, তিনি ঘটনার কথা জানাতে পেরে বাড়িতেই আছেন। তবে এখন আতঙ্কে সিঁটিয়ে বার্নিয়া গ্রাম। তেহট্ট ২–‌এর বিডিও শুভ সিংহ রায় জানান, ব্লক প্রশাসনের চারটি দল তৈরি করা হয়েছে। যেখানে আশা কর্মী, পুলিশ আধিকারিক, পঞ্চায়েতের দল একত্রিত হয়ে  শ্রীকৃষ্ণপুর থেকে বার্নিয়ার প্রত্যেক পরিবারের কাছে যাচ্ছেন। প্রত্যেকের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ব্লক প্রশাসনের তরফে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ব্লক প্রশাসনের তরফে একটি কন্ট্রোল রুম নম্বর (৮১১৬৩৫৫৫৯৯) দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক পরিবারকে। বলা হয়েছে যদি কোনও উপসর্গ দেখা যায় তাহলে ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে। 
ঘটনার পর শুধু বার্নিয়া গ্রামেই নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রামেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বেতাই, দেবগ্রাম, নাকাশিপাড়া, বেথুয়া, পলাশিপাড়া, তেহট্ট, করিমপুরের এলাকার মানুষ নিজেকে ঘরবন্দি করেছেন। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top