দীপঙ্কর নন্দী
‘‌
কারওর সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। কলকাতার বাড়িতে দুটো টিভি। তার মধ্যে একটা মেয়ের, আর একটা ছেলে দখল করে রেখেছে। আমি কিছু দেখার সুযোগই পাচ্ছি না। ডিপ্রেশনে চলে না যাই। খুব ভয় করছে। কতদিন এভাবে বাড়িতে থাকতে হবে, তা কেউ কিছু বলতে পারছে না।’‌ কথা হচ্ছিল তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে। বললেন, ‘‌এই ফেব্রুয়ারি মাসেই আমার মা মারা যান। এই অসহায় মুহূর্তে মাকে খুব দরকার ছিল। গল্প করে সময় কাটিয়ে দিতাম।’‌
শতাব্দীর বক্তব্য, ‘‌কাজের লোকেদের আসা বন্ধ করে দিয়েছি। একজনই শুধু ২৪ ঘণ্টা থাকে। রান্না‌বান্না ও–‌ই করে। আমি খুব একটা ভাল পারি না। আমার মার রান্নার হাত ভাল ছিল। এখন মনে হয়, মার কাছ থেকে রান্নাটা শিখে নিলে ভাল হত। ওঁর কাছ থেকে অনেক কিছু জানা বাকি রয়ে গেল। স্বপ্নেও ভাবিনি করোনাভাইরাসের মতো মারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। বলা হয়েছে, বাড়ির বাইরে না বেরতে। এটাই নাকি একমাত্র রক্ষা পাওয়ার উপায়। তাই, ঘরের ভেতর ভাল না লাগলেও জোর করে থাকতে হচ্ছে। বীরভূমে যেতে পারছি না। মনটা পড়ে আছে ওখানে। মাঝে মধ্যে ফোনে কর্মীদের সঙ্গে কথা হয়। টুকটাক নির্দেশ দিই। এভাবে কতদিন চলবে, কেউ বলতে পারছে না।’‌ মাস্ক পরতে পারেন না শতাব্দী। দম বন্ধ হয়ে আসে। শতাব্দী বললেন, ‘‌অফুরন্ত সময়। ভাবছি আবার কবিতা লেখা শুরু করব। দিল্লিতে যখনই সময় পেতাম, দলের কাজ করতাম। মাঝে মধ্যে শপিং করতে যেতাম। শপিং করতে আমার খুব ভাল লাগে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ওইসব রঙিন দিন আবার ফিরবে। ছেলে মেয়েটাকেও সুস্থ রাখতে হচ্ছে। ওরাও ছটফট করছে।’‌ 
বাড়ি দক্ষিণ কলকাতায়। জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল নিজের বাড়িতেই রয়েছেন। বাড়িতে থেকে প্রতিমার কাজ আরও বেড়ে গেছে। গোটা বাড়িটাকে তিনি জয়নগর বানিয়ে ফেলেছেন। অজস্র ফোন তাঁকে ধরতে হচ্ছে বলে প্রতিমা জানান। তিনি বলেন, ‘‌বাইরের রাজ্যে অনেকেই আটকে পড়েছেন। তাঁরাও ফোন করছেন। যোগাযোগ করে তাঁদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। জয়নগর থেকেও ফোন আসছে। কারও কারও সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছি। তাঁদের বলছি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই সময় যে সব নির্দেশ দিয়েছেন, তা পালন করবেন। তারই মধ্যে সংসারের কাজও করতে হচ্ছে। কারও জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। আমার সময় কেটে যাচ্ছে। বাড়ির মধ্যে আমার কোনও একঘেয়েমি লাগছে না। করোনা ভাইরাসের জন্য সাংসদ তহবিল থেকে ১.‌৫০ কোটি টাকা চিকিৎসার জন্য দিয়েছি। এলাকার হাসপাতালে ডাক্তার ও কর্মীদের জন্য যা যা দরকার হবে, তার ব্যবস্থা করে দেব। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে বাড়িতেই থাকব।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top