দীপঙ্কর নন্দী- ‘‌৭০ বছর বাড়ির বাইরে ছিলাম। এখন ঘরের ভেতর থাকতে পেরে অনেকটা স্বস্তি পাচ্ছি। মাঝখানে কয়েকদিন বাড়িতে খবরের কাগজ আসেনি। ভোরবেলা খবরের কাগজ হাতে না পেলে কেমন যেন বিস্বাদ লাগে। বিবিসি খুব ভাল খবর দেখাচ্ছে। ভাবতেই পারিনি এমন কাণ্ড ঘটে যাবে।’‌ কথা হচ্ছিল লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ ব্যানার্জির সঙ্গে। বাড়িতে ভাল লাগলেও বিধায়ক নয়না ব্যানার্জি ঘরে ছটফট করছেন। একদম ভাল লাগছে না তাঁর। নবরাত্রি চলছে। সাবু–ফল খেয়ে নয়না দিন কাটাচ্ছেন, সুদীপকে বাধ্য হয়ে নিরামিষ খেতে হচ্ছে। ওঁর প্রিয় চিকেন, সেটা বাড়িতে এখন ঢুকছে না। লোকসভায় ফুড অ্যান্ড কনজিউমার পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান সুদীপ। বাড়ি থেকে দিল্লিতে বারবারই ফোন করে জেনে নিচ্ছেন দেশে চাল মজুত আছে কি না। সুদীপ বলেন, ‘‌আমার কাছে যা তথ্য আছে, তাতে চাল যথেষ্ট মজুত আছে। বাড়িতে কর্মীদের আসা প্রায় বন্ধ। খুব জরুরি কাজ না থাকলে কেউ আসছে না। আমার বাড়িতে নানা ধরনের ম্যাগাজিন আছে। সেগুলো পড়ি। লোকাল টিভির খবর দেখি। বাজারের সামনে এত সুন্দর নিখুঁত গোল দাগ দিতে পারেন মমতা, সেটা জানতাম না। আমি আঁকতে গেলে গোল দাগ চ্যাপ্টা হয়ে যেত। আসল কথা হল, মমতা তো ছবি আঁকেন তাই গোল দাগগুলো এত ভাল হয়েছে। অফুরন্ত সময় এখন আমার। উত্তর কলকাতার দায়িত্বে আছি। এখানে কাউন্সিলরদের সঙ্গে আমার ফোনে যোগাযোগ আছে।’‌
‌কয়েক বছর আগে বেলুড় মঠ থেকে দীক্ষা নিয়েছেন নয়না। মাঝেমধ্যেই সেখানে যান। মহারাজদের সঙ্গে দেখা হয়। এখন যাওয়া বন্ধ। ফোনেই তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন। হোয়াটসঅ্যাপ করছেন তাঁদের। এখন বাড়িতে নবরাত্রি চলছে। নয়না বললেন, ‘‌কোনও সবজি এই মুহূর্তে খাওয়া চলবে না। সাবু–ফল খেয়ে রয়েছি। আমার এলাকার কাউন্সিলররা রাস্তায় থেকে কাজ করছেন। বিপদে–আপদে তাঁরা মানুষের পাশে রয়েছেন। প্রথম দিকে আমি রাস্তায় নেমেছিলাম। সাধারণ মানুষদের মাস্ক ও স্যানিটাইজার দিয়েছি। দিদি যা যা নির্দেশ দিচ্ছেন, তা পালন করছি। মমতা এখন অগ্নিকন্যা থেকে মমতাময়ী মা হয়ে গেছেন। প্রার্থনা করি, দিদি যেন ঠিক থাকেন। আমার কাছে মাঝেমধ্যে লোক দেখা করতে আসছেন। আমি তাঁদের বলেছি, ৫ জনের বেশি কখনোই নয়। এলাকার গরিব লোকেদের জন্য চাল, ডাল, আলু পাঠিয়ে দিচ্ছি। বাড়ি থেকে এভাবে আর কতদিন কাজ করব?‌ বেরিয়ে পড়তে ইচ্ছে করছে।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top