প্রভাত সরকার ও বুদ্ধদেব দাস, ফরাক্কা ও মেদিনীপুর: প্রশাসনের তৎপরতায় দিল্লির নিজামুদ্দিন–‌ফেরত তবলিঘি জামাতের এক সদস্যের খোঁজ মিলল রঘুনাথগঞ্জের কাকুড়িয়া মিয়াপুরে। শুক্রবার স্ক্রিনিং হয়। শনিবার সকাল থেকে তঁাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তঁার পরিবারের নয় সদস্যকেও হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা।
জানা গেছে, বছর আটচল্লিশের ওই ব্যক্তি অসমে প্লাস্টিকের ব্যবসা করেন। ১৭ মার্চ তিনি দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিঘি জামাতের ইজতেমায় যান। সেখান থেকে ২০ মার্চ সরাসরি ব্যবসার কাজে অসম চলে যান। মাঝে লকডাউন হওয়ায়  বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না। শেষে ৩১ মার্চ লরিতে চেপেই বাড়ি ফিরলেও বিষয়টি সকলের থেকে লুকিয়ে রাখেন। শুক্রবার গোপনে এই খবর পেয়ে রাতেই তঁার বাড়িতে হানা দেন পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তঁাকে স্ক্রিনিং করে বারালা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। পাশাপাশি তঁার পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের সিএমওএইচ প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘‌ওই ব্যক্তি দিল্লির নিজামুদ্দিনে অংশ নিয়েছিলেন। আমরা খবর পেয়ে তঁার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করেছি। তঁার শরীরে কোনও উপসর্গ না থাকায়, তঁার লালারস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি, জঙ্গিপুরে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। চারদিন তিনি বাড়িতে থাকায় বাড়ির ৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।’‌ 
এদিকে দিল্লির ওই সমাবেশে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসের এক শিক্ষক গিয়েছিলেন বলে গুজবে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শুক্রবারই আলিগড়ের ওই ক্যাম্পাসে যান সুতি ১ ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। পরে ওই স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘‌জনাদশেক পরিবার রয়েছে ওই ক্যাম্পাসে। তঁাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কেউই ওই সমাবেশে যাননি। শুধুমাত্র একজন শিক্ষক উত্তরপ্রদেশ থেকে ফিরেছেন ১৫ মার্চ। তিনি দিল্লির রেল স্টেশন হয়ে এসেছেন। সঙ্গে কেউ ছিলেন না। ক্যাম্পাসের আবাসনে ওই অধ্যাপক স্ত্রী ও এক শিশুর সঙ্গে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ১৪ দিনেরও বেশি। তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। তবুও তঁাকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।’‌ জঙ্গিপুরের এসডিপিও প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‌নিজামুদ্দিনের ওই সমাবেশে যাঁরা ছিলেন সেই তালিকায় আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুর্শিদাবাদ ক্যাম্পাসের কারও নাম নেই।’‌‌‌
অন্যদিকে করোনা আতঙ্কের জেরে ভিন রাজ্য থেকে এসে আটকা–‌পড়া মানুষদের লম্বা লাইন পড়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে জ্বরের ক্লিনিকে। বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ খড়্গপুরে জামাতে যোগ দিতে এসেছিলেন এক মাস আগে। বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে মেদিনীপুরে এসে লকডাউনের জেরে তঁারা আটকা পড়েন। বিভিন্ন মসজিদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন তঁারা। মসজিদের ইমাম তাঁদের জানিয়েছেন, লকডাউন উঠলে ফিরতে পারবেন। একইভাবে বর্ধমান থেকে এসেছেন ৪০ জন। তাঁরাও এদিন হাসপাতালে যান। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা বলেন, ‘‌যে কেউ হাসপাতালে চেক আপ করাতেই পারেন।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top