আজকালের প্রতিবেদন
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যাতে কালোবাজারি না হয় তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে তৃণমূলের নেতারা সজাগ আছেন। নিজেদের কেন্দ্রে বাজার ও দোকানে তাঁরা ঘুরছেন। ওষুধ দোকানে মজুত আছে কিনা তা নিজের কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গত দুদিন ধরে বেহালা পশ্চিমে কয়েকটি বাজার পরিদর্শন করেছেন দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি। বিক্রেতাদের সঙ্গে তিনি দাম নিয়ে কথাবার্তা বলেছেন। তাদের বলা হয়েছে, ন্যায্য মূল্যে জিনিসপত্র বিক্রি করতে হবে। মানুষ যাতে জিনিসপত্র পায়, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। ঘুরেছেন মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি। নিজের এলাকায় বাজার ও ওষুধের দেকানে গেছেন। কালোবাজারি রুখতে তিনি এলাকার মানুষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। এরই মধ্যে খিদিরপুর বাজার পরিদর্শন করে এসেছেন মেয়র ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। 
শনিবার রানিকুঠিতে একটি ওষুধের দোকানে গিয়েছিলেন অরূপ। সঙ্গে ছিলেন তপন দাশগুপ্ত, তারকেশ্বর চক্রবর্তী ও মলয় মজুমদার। টালিগঞ্জের ৯টি ওয়ার্ড ও যাদবপুরের ১০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন অরূপ ঘুরছেন। ওষুধ, দুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিচ্ছেন। মানুষ যাতে বাড়ি থেকে না বের হয়, তার জন্যই এই কাজ করছেন তিনি। টালিগঞ্জ ও যাদবপুরে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ৭ টন করে চাল, ৭ টন করে আলু ও ডাল স্থানীয় কাউন্সিলরদের হাতে তুলে দেন। মোট ১৯টি ওয়ার্ডে সারাদিন ঘুরছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশ মতো করোনা মোকাবিলায় মানুষ সজাগ ও সচেতন আছেন কিনা তা দেখছেন অরূপ।
এদিকে মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছেন। হেল্প লাইনে নম্বরও দেওয়া হয়েছে। এলাকায় যাঁরা অসহায় গরিব মানুষ আছেন, তাঁদেরকে চাল, ডাল, আলু পৌঁছে দিচ্ছেন দেবাশিস কুমার। উচ্চবিত্তদের নাম ঠিকানা নেওয়া হচ্ছে। অনেকে বাড়িতে একা থাকেন, আবার কেউ কেউ লকডাউনের জন্য বেরোতে পারছেন না, তাঁরা যদি নাম ঠিকানা দেন, তাহলে তাঁদের কাছে খাবার দাবার, ওষুধপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হবে। দেবাশিস কুমার নিজের ওয়ার্ডে রুটি তৈরি করে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। হেল্প লাইনের নম্বর হল— ৯৮৩৬৯৯৬৩৮৯। ২১ মার্চ থেকে তিনি কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছেন। ৮৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০টা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করা হয়েছে।‌‌
কসবার বিধায়ক জাভেদ খান লকডাউন পরিস্থিতিতে ৩০ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২০ হাজার পরিবারকে ২ কেজি চাল, ১ কেজি গম, ১ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু দেওয়া হবে। তিনি সোস্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন সতর্ক থাকুন, সচেতন থাকুন, করোনার বিরুদ্ধে জয় হবে জীবনের। দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু এদিন শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব থেকে বিধাননগরের বিভিন্ন এলাকার দিনজুর, রিকশাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা ও গরিব মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার জনকে এই পরিষেবা দেওয়া হবে। এদিন ৫ হাজার জনকে পরিষেবা দেওয়া হল।‌ কাঁকুড়গাছিতে নিজের অফিস থেকে বিধায়ক পরেশ পাল গরিব মানুষদের ত্রাণ বিলি করেন। সাদা প্লাস্টিকের প্যাকেটে চাল, ডাল দেওয়া হয়। এলাকার বহু গরিব মানুষ সকাল থেকেই পরেশের অফিসে ভিড় করেন। তৃণমূলের কর্মীরা প্রথমে তাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে দেন। তারপর ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

জনপ্রিয়

Back To Top