শান্তনু দাস, বীরভূম:‌ 
একদিকে করোনার কারণে লকডাউন। অন্যদিকে দুর্দশা বাড়াল সুপার সাইক্লোন আমফান। লকডাউন চলাকালীনও তাঁরা নিজেদের শান্ত রেখে গৃহবন্দী হয়েছিলেন কাজের জায়গায়। কিন্তু তার মাঝেই ঘূর্ণিঝড় আমফান। তছনছ করে দিয়েছে তাঁদের ভিটেমাটি। আর বসে থাকা সম্ভব নয়। হেঁটেই ৪০০ কিমি পথ অতিক্রম করার সিদ্ধান্ত নিলেন ১২ জন পরিযায়ী শ্রমিক।
 আমফানের করাল গ্রাসে নিজেদের ভিটেমাটি লন্ডভন্ড হওয়ার ছবি তাঁরা রাতেই দেখেন টিভির পর্দায়। ছবি দেখে কাতর হয়ে ওঠে মন। পরিবারের কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে আর স্থির থাকতে পারলেন না তাঁরা। দেওঘর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে সুদূর সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। সেখানেই প্রত্যেকের বাড়ি। কর্মসূত্রে তাঁরা থাকেন ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বৈদ্যনাথপুরে। সেখানে তাঁরা একটি রাইসমিলে কর্মরত। আর সিদ্ধান্ত মতই রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে পড়েন। রাইসমিলের মালিককে বারবার বাড়ি ফেরার জন্য বন্দোবস্ত করে দেওয়ার কথা বললেও কোন রকম ব্যবস্থা করে দেননি মালিক। তাই বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই রওনা। আসলেই যতই হোক বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের পরিবার, নিজের ঘর বাড়ির জন্য মন কাঁদে সবার।
 দেওঘর থেকে পায়ে হেঁটে রওনা দেওয়ার পর ইতিমধ্যেই তাঁরা বীরভূমের সিউড়ির কাছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর এসে পৌঁছোন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের পথ আটকায় এবং জিজ্ঞাসা করে কোথা থেকে আসছেন। তখনই কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা এবং সমস্ত কিছু খুলে বলেন। এরপর খবর দেওয়া হয় সিউড়ি থানায়। সিউড়ি থানার পুলিশ আসে এবং তাঁদের সেখান থেকে রিলিফ সেন্টারে নিয়ে যায়। 
ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের এক শ্রমিক শুকদেবের বক্তব্য, ‘‌আমাদের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকা ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে। আমাদের বাবা–মা ঘরবাড়ি ছেড়ে পথে বসে আছেন। তাই কাজের জায়গা থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরা। যাতে করে অন্ততপক্ষে আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়ালে তাঁদের মনোবল ফিরে আসে। আর আমরা যেটুকু দেখেছি, তা টিভির পর্দায়। পরিবারের কারো সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করতে পারিনি। কারণ ওখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক উড়ে গেছে। 
অন্যদিকে বীরভূমের স্থানীয় বাসিন্দা জয়দীপ মজুমদার জানান, ‘‌এই ভাবে পথে হেঁটে যেতে দেখে আমরা কয়েকজন তাঁদের থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম পুরো ঘটনা। তারপর তাঁরা জানান তাদের বাড়িঘর ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে গেছে, বাড়ির কারো সঙ্গে কোনরকম যোগাযোগ করতে পারছেন না। সে কারণে এইভাবে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top