নিরুপম সাহা,অশোকনগর: কালীপুজোয় এবার অশোকনগর থানার কচুয়া ঘোষপাড়ার বাসিন্দা মিনিয়েচার শিল্পী বাসুদেব পাল মুড়ি ও ডালের ওপর শ্যামা মায়ের মূর্তি তৈরি করে চমক দিয়েছেন। তাই পুজো শেষ হলেও চর্চা শেষ হয়নি তঁার এই কাজ নিয়ে। ছাত্র জীবন থেকেই অঁাকার প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল তঁার। কিন্তু অর্থের অভাবে তুলি এবং রং কেনার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এমন কিছুর ওপর কাজ করবেন, যা হাতের কাছেই পাওয়া সম্ভব। তাই এখন এইসব ছোট ছোট জিনিস নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
বাঙালির কাছে আলোর উৎসব মানেই শ্যামাপুজো। আর এই পুজোয় নানা ধরনের থিম পুজোর মূর্তি গড়েন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে একটু অন্য ভাবনায় নিজেকে সামিল করলেন, যা অন্য কোনও শিল্পী করেননি। সেই ভাবনা থেকেই একটা মুড়ির ওপর কালীর মূর্তি অঁাকলেন তিনি। মুড়ির ওপর শ্যামামায়ের উচ্চতা হাফ ইঞ্চি। ওজন এক গ্রামেরও কম। প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে তুলি, আঠা, রং, আতস কাচ। মুড়ির ওপর এই প্রতিমার ছবি অঁাকতে সময় লেগেছে দু’‌দিন। তবে এই মূর্তি কোনও মণ্ডপে পুজোর জন্য তৈরি করা হয়নি। তাই কোনও পারিশ্রমিক পাওয়ারও প্রশ্ন নেই। নিজের মনের খোরাক মেটাতে এই কাজটি করেছেন তিনি। গত পঁচিশ বছর ধরে ভালবেসে এই কাজ করছেন তিনি। প্রতিদিন অন্তত একবার নিয়ম করে হাতে তুলি এবং রং তুলে নেন তিনি। তঁার এই কাজে খুশি অঞ্চলের শিল্পানুরাগী মানুষ। অনেকেই বিষয়টি জানেন। তঁারা তঁার প্রশংসা করেছেন।
স্ত্রী, পুত্র নিয়ে তিনজনের সংসার বাসুদেববাবুর। ছেলের পড়াশোনায় অনেক খরচ। তাই এই কাজে শিল্পীর মনের খোরাক মিটলেও পেটের খোরাক মেটানোর জন্য সোনার বাক্সের প্রিন্টিংয়ের কাজ করতে হয় তঁাকে। শিল্পী বাসুদেব পাল এর আগে একটি চালের দানার ওপর রামকৃষ্ণ, সারদামণি, বিবেকানন্দের ছবি এঁকেছেন। সর্ষের দানার ওপর এঁকেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ছবি। এছাড়া, একটি মটর ডালের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিমূর্তি তৈরি করেছেন। অশোকনগরের এই মিনিয়েচার শিল্পীর চোখে মুখে এখন শুধু একটাই স্বপ্ন, গ্রিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তোলা। যদিও এমন ধরনের কাজ এই প্রথম নয়। মাঝে মাঝে আমাদের এই বাংলাতেই এমন শিল্পনৈপুণ্যের পরিচয় পাওয়া যায় অনেক শিল্পীর কাজে। কিন্তু মুড়ি বা ডালের ওপর শ্যামা মায়ের ছবি অঁাকার কথা এর আগে শোনা যায়নি।                    

মুড়ির ওপর শ্যামা মা। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top