আজকালের প্রতিবেদন

 

 

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাজ্যের সমস্ত কন্টেনমেন্ট জোনে শুরু হল কড়া নজরদারি। চলবে সাত দিন। মাস্ক না পরে পথে বের হলে নেওয়া হচ্ছে কড়া ব্যবস্থা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এলাকা থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। গেলেও তার জন্য জবাবদিহিও করতে হয়েছে। এলাকা বাসিন্দাদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ করা হয়েছে। বাজার, ওষুধ, আপৎকালীন প্রয়োজনে হাসপাতালে যাওয়া সবেতেই ওই গ্রুপের মাধ্যমে সহায়তা করবে পুলিশ। 
কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, করোনা নিয়ে অহেতুক রাজনীতি নয়। সংক্রমিত এলাকায় নিরাপত্তার জন্যই কন্টেনমেন্ট জোনে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে। এবং তা করা হচ্ছে শহর সচল রেখেই। এটা সকলের জন্য দরকার। সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক কতটা জরুরি তা বুঝতে হবে। অনেকেই মাস্ক না পরে বেরিয়ে পড়ছেন। তাঁদের সচেতন করতে হবে।‌
কলকাতা
কোথাও লোহার খাঁচা, কোথাও বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট এলাকা। অনেক আগে থেকেই চলেছে প্রচার। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রয়োজন জানাতেই এলাকাবাসীর কাছে পাউরুটি, দুধ, ওষুধ পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। বুধবারই বিভাগীয় ডিসিদের নিয়ে বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা কন্টেনমেন্ট জোনে ২৪ ঘণ্টা পিকেটিংয়ের নির্দেশ দেন। বহুতল আবাসন, বাড়ির কন্টেনমেন্ট জোনে খাবার, বাজার, ওষুধের বিষয়ে পুলিশকর্মীদের দেখতে বলা হয়। অসুস্থদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সবক’টি কন্টেনমেন্ট জোনে সংশ্লিষ্ট থানা এবং ওয়ার্ড কো–অর্ডিনেটরদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গড়া হয়। প্রয়োজন বা সমস্যা গ্রুপে জানালে সমাধান করা হবে। খাবারের হোম ডেলিভারি চাইলে তারও ব্যবস্থা করা হবে। কেউ নিয়ম ভাঙছেন কি না, তা দেখার জন্য এলাকার সিসিটিভি–র ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। কন্টেনমেন্টের কারণে রাস্তা বন্ধ রাখা হলে গাড়ি অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিকেল ৫টার পর কাউকে বেরোতে দেওয়া হয়নি। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কো–অর্ডিনেটর অসীম বসু জানান, ভবানীপুর থানার ওসি–র সঙ্গে বিভিন্ন আবাসনের বাসিন্দাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। সকাল ৮টার মধ্যে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা গ্রুপে দিলে ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবীরা তালিকা মিলিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে পৌঁছে দেবেন। বাজার পৌঁছানোর খবর হোয়াটসঅ্যাপেই জানিয়ে দেওয়া হবে। কমিউনিটি কিচেনে রান্না খাবারও বিতরণ করা হবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা
মহেশতলা, বজবজ, বিষ্ণুপুর, রাজপুর–‌সোনারপুর পুরসভার একাংশ–সহ জেলায় ৫৪টি কন্টেনমেন্ট জোন। সেখানকার সংক্রমিত এলাকাগুলি আটকে বাইরে যাওয়া বন্ধ। নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। মাস্ক না পরে বাইরে বের হওয়ায় অনেককেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডায়মন্ডহারবার, কাকদ্বীপ এবং পাথরপ্রতিমায়ও কড়া নজরদারি। সংক্রমিত এলাকাগুলিতে খাবার, ওষুধের প্রয়োজনে পুলিশ, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। 
উত্তর ২৪ পরগনা
বারাসতের কন্টেনমেন্ট এলাকাগুলি বাঁশ দিয়ে ‘সিল’ করে দিয়েছে পুলিশ। সকাল থেকে কন্টেনমেন্ট এলাকায় টোটোয় করে প্রচার চলে। বিকেলে ওই এলাকায় সব ধরনের পরিবহণও বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাস্ক ছাড়া যারা বেরিয়েছিলেন তাদের বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়। ব্যারাকপুর মহকুমার ৩৮টি কন্টেনমেন্ট জোনেও বিকেল ৫টার পর অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া অন্যান্য দোকানবাজার বন্ধ করা হয়। খড়দহের পুর প্রশাসক কাজল সিনহা খড়দহের বিভিন্ন জায়গায় ১০টি কিয়স্কের ব্যবস্থা করেন।
হাওড়া, হুগলি, পুরুলিয়া
এদিন বিকেল থেকেই হাওড়ার কন্টেনমেন্ট জোনগুলি সিল করে, যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্য রাস্তা দিয়ে বাস, যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তবে জেলার বেশিরভাগ এলাকায় বাস চলাচল, জনজীবন স্বাভাবিক। কন্টেনমেন্ট জোনে থাকায় হাওড়া জেলা পরিষদের অফিসে কর্মীদের আসা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিধি কার্যকর করতে সবরকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 
হুগলির ২১টি এলাকা কন্টেনমেন্ট জোন হিসাবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ১৪টি পুরসভা এবং ৭টি গ্রামীণ এলাকা। বিকেল হতেই গার্ডরেল লাগিয়ে ওই এলাকার রাস্তা সিল করে চলে কড়া নজরদারি। রিষড়া এন এস রোড এলাকায় বাসিন্দারাই বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে বহিরাগতদের ঢোকা, বেরনো বন্ধ করেন। সকালে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় জমে মুদিখানা, রেশন দোকানে। জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও জানান, জরুরি ছাড়া সব পরিষেবা, কাজকর্ম বন্ধ। কন্টেনমেন্ট জোনের বাইরে ব্যাঙ্ক, দোকান, বাজার সবই খোলা।
পুরুলিয়ায় ১৩টি  কন্টেনমেন্ট জোনে রাস্তায় বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে শুরু হয়েছে কড়া নজরদারি। পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর জানিয়েছেন, কন্টেনমেন্ট জোনে সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি কারণ ছাড়া ওই এলাকা থেকে কেউ বেরতে বা ঢুকতে পারবেন না।
উত্তরবঙ্গ
কন্টেনমেন্ট জোন কড়া শাসনে রাখতে পথে শিলিগুড়ি পুলিশ। এদিন বিকেলেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালায় পুলিশ। নিয়মভঙ্গকারীদের আটক করা হয়। অভিযান চলে অন্য কন্টেনমেন্ট জোনেও। বেশকিছু এলাকায় পুলিশ ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দোকান বন্ধ করায়। শিলিগুড়ি পুরনিগমের দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত ২, ৪, ৫, ২৮ এবং ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড ও জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত ৩৭, ৩৮, ৩৯ এবং ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে কড়া নজরদারি চলে। বাঁশের ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়। দক্ষিণ দিনাজপুরে ৪৭টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩৩টি কন্টেনমেন্ট জোনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ি পুরসভার কন্টেনমেন্ট জোনেও পুলিশ–প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।‌

হাওড়ার চিন্তামণি দে রোডে পুলিশের কড়া নজরদারিতে এলাকার বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা। ছবি: কৌশিক কোলে

জনপ্রিয়

Back To Top